এলপিজির দামে বড় স্বস্তি, ১২ কেজি সিলিন্ডারে কমল ৩৫৭ টাকা
নিজস্ব প্রতিবেদক, পকেট নিউজ | ২ জুলাই ২০২৬
ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ব্যবহারকারীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সংস্থাটি জুলাই মাসের জন্য এলপিজির নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে, যেখানে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৩৫৭ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিইআরসি নতুন মূল্য ঘোষণা করে। নতুন এই দাম বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
প্রতি কেজিতে কমেছে প্রায় ৩০ টাকা
বিইআরসির ঘোষণায় প্রতি কেজি এলপিজির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১২৭ টাকা ৩০ পয়সা, যা আগের মাসে ছিল ১৫৭ টাকা ৬ পয়সা। অর্থাৎ প্রতি কেজিতে ২৯ টাকা ৭৬ পয়সা কমেছে।
এই নতুন হার অনুযায়ী বাজারে বিভিন্ন ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারিত হবে।
বিশ্ববাজারে দরপতনের প্রভাব
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এর প্রভাবে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা ঘটে।
এপ্রিলের শুরুতে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম এক দফায় ৩৮৭ টাকা এবং একই মাসের ১৯ এপ্রিল আরও ২১২ টাকা বাড়ানো হয়। ফলে সিলিন্ডারটির মূল্য বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৪০ টাকা।
পরবর্তীতে যুদ্ধবিরতি শুরু হলে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম কমতে থাকে। এর ধারাবাহিকতায় জুন মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম কমে ১ হাজার ৮৮৫ টাকা হয়। এবার জুলাই মাসে আরও ৩৫৭ টাকা কমে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৫২৮ টাকা।
সরকারি এলপিজির দাম অপরিবর্তিত
বিইআরসি জানিয়েছে, সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা সাড়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে যানবাহনে ব্যবহৃত অটো গ্যাসের দামও কমানো হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী প্রতি লিটার অটো গ্যাসের দাম ৭০ টাকা ৪০ পয়সা, যা আগে ছিল ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা।
বাজারে নির্ধারিত দামে বিক্রি নিয়ে প্রশ্ন
যদিও বিইআরসি প্রতি মাসেই আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে, তবুও বাস্তবে অনেক এলাকায় নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
বিশেষ করে গৃহস্থালিতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের অভিযোগ প্রায়ই উঠে আসে। ফলে নতুন দাম কার্যকর হলেও ভোক্তারা নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি পাবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
যেভাবে নির্ধারিত হয় এলপিজির দাম
২০২১ সালের এপ্রিল থেকে দেশে এলপিজির মূল্য নির্ধারণ করছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। এলপিজির প্রধান উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। প্রতি মাসে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান আরামকো আন্তর্জাতিক বাজারের সৌদি কার্গো মূল্য (সিপি) প্রকাশ করে।
এই সৌদি সিপিকে ভিত্তি ধরে আমদানিকারকদের চালান মূল্য এবং সংশ্লিষ্ট সময়ের গড় ডলার বিনিময় হার বিবেচনায় নিয়ে বিইআরসি দেশের এলপিজির নতুন মূল্য নির্ধারণ করে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য হ্রাসের প্রভাব দ্রুত ভোক্তাপর্যায়ে পৌঁছানো ইতিবাচক হলেও নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে বাজার তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online


0 মন্তব্যসমূহ