📢 প্রতিদিনের খেলার সূচি ও লেটেস্ট খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 চাকরির নিয়োগ, পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার কমে ৬২.২৫%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। ------ || ------ 📢 খেলা||- ফুটবল-- আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ------ || ------ 📢 হরমুজ প্রণালি কবে খুলবে, অনিশ্চয়তায় ফের বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম।

অপ্রতিরোধ্য ফ্রান্সের সামনে অসহায় মরক্কো, এমবাপ্পে–দেম্বেলের জোড়া আঘাতে সেমিফাইনালে

 

অপ্রতিরোধ্য ফ্রান্সের সামনে অসহায় মরক্কো, এমবাপ্পে–দেম্বেলের জোড়া আঘাতে সেমিফাইনালে

অপ্রতিরোধ্য ফ্রান্সের সামনে অসহায় মরক্কো, এমবাপ্পে–দেম্বেলের জোড়া আঘাতে সেমিফাইনালে 

ম্যাচজুড়ে আধিপত্য, বিশ্বকাপে এখনো একবারও পিছিয়ে পড়েনি দেশমের দল; শিরোপার পথে সবচেয়ে বড় দাবিদার ফ্রান্স

স্পোর্টস ডেস্ক, পকেট নিউজ|১০ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠার গল্প নতুন নয়। তবে মরক্কোর বিপক্ষে ফ্রান্স যে আধিপত্য দেখিয়েছে, সেটি শুধু একটি জয় নয়; বরং পুরো টুর্নামেন্টে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের আরেকটি শক্ত বার্তা। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রেখে ২-০ গোলের জয়ে শেষ চারে জায়গা নিশ্চিত করেছে দিদিয়ের দেশমের দল।

ম্যাচের ফলাফলের চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছে ফ্রান্সের খেলার ধরন। পুরো ম্যাচে এমন কোনো মুহূর্ত তৈরি হয়নি, যখন মনে হয়েছে মরক্কো ম্যাচে ফিরতে পারে। আক্রমণ, বলের নিয়ন্ত্রণ, গতি, কৌশল ও রক্ষণ—সব বিভাগেই উত্তর আফ্রিকার দলটিকে ছাপিয়ে গেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

শুরু থেকেই একচ্ছত্র আধিপত্য

খেলা শুরুর প্রথম পাঁচ মিনিটেই গোলের দুটি পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করে ফ্রান্স। গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুর দুর্দান্ত সেভে সেসব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও শুরুতেই ম্যাচের চিত্র স্পষ্ট হয়ে যায়।

মিডফিল্ডে মাইকেল ওলিসে ও আদ্রিয়াঁ রাবিওর নিয়ন্ত্রণ, দুই প্রান্তে উসমান দেম্বেলের গতি এবং সামনে কিলিয়ান এমবাপ্পের ধারালো উপস্থিতি মরক্কোর রক্ষণকে পুরো ম্যাচজুড়ে ব্যস্ত রাখে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে নিজেদের অর্ধেই প্রায় পুরো দল নিয়ে রক্ষণ সামলাতে বাধ্য হয় মরক্কো।

ক্রমাগত চাপের মুখে এক পর্যায়ে এমবাপ্পেকে পেনাল্টি এলাকায় ফাউল করেন নুসাইর মাজরাউয়ি। তবে পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন ফরাসি অধিনায়ক। তবু ম্যাচের গতি দেখে তখনই স্পষ্ট ছিল, গোলের অপেক্ষা কেবল সময়ের ব্যাপার।

দ্বিতীয়ার্ধে ভাঙে মরক্কোর প্রতিরোধ

প্রথমার্ধে কোনোভাবে গোলশূন্য সমতা ধরে রাখলেও বিরতির পর আর সেই প্রতিরোধ টিকিয়ে রাখতে পারেনি মরক্কো।

ম্যাচের ৬০তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নিজের পরিচিত স্টাইলে দুর্দান্ত শটে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। গোলটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

মাত্র ছয় মিনিট পর পাল্টা আক্রমণ থেকে উসমান দেম্বেলে দ্বিতীয় গোল করলে কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়। এরপর আর ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পায়নি মরক্কো। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সেমিফাইনালে উঠে যায় ফ্রান্স।

পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট দুই দলের ব্যবধান

ম্যাচের প্রথমার্ধেই দুই দলের শক্তির পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গোলের উদ্দেশ্যে প্রথম ৪৫ মিনিটে ফ্রান্স শট নেয় ১৩টি, বিপরীতে মরক্কো নিতে পারে মাত্র একটি।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ১৯৬৬ সাল থেকে এমন পরিসংখ্যান সংরক্ষণের ইতিহাসে প্রথমার্ধে শটের ব্যবধানে এর চেয়ে বড় পার্থক্য দেখা গেছে মাত্র একবার। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে সুইডেনের বিপক্ষে ব্রাজিল ১৭টি এবং সুইডেন মাত্র একটি শট নিয়েছিল। সেই আসরে শেষ পর্যন্ত শিরোপাও জিতেছিল ব্রাজিল।

আরো পড়ুন
পোস্ট লোড হচ্ছে...

কেন এত ভয়ংকর ফ্রান্স?

এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত একবারও পিছিয়ে পড়তে হয়নি ফ্রান্সকে। এটিই প্রমাণ করে, শুরু থেকেই ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে কতটা সফল দেশমের দল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্রান্স সবচেয়ে বিপজ্জনক হয়ে ওঠে তখনই, যখন তারা এগিয়ে যায়। কারণ সমতায় ফেরার জন্য প্রতিপক্ষকে আক্রমণে উঠতেই হয়। আর সেই সুযোগে ফাঁকা জায়গা কাজে লাগিয়ে এমবাপ্পে, দেম্বেলে ও অন্য ফরোয়ার্ডরা পাল্টা আক্রমণে আরও বেশি কার্যকর হয়ে ওঠেন।

মরক্কোর বিপক্ষেও ঠিক এমন দৃশ্যই দেখা গেছে। এমবাপ্পের গোলের পর সমতায় ফেরার চেষ্টায় রক্ষণ থেকে ওপরে উঠে আসে মরক্কো। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয় গোল করে ম্যাচ নিশ্চিত করেন দেম্বেলে।

শিরোপার পথে সবচেয়ে বড় দাবিদার

টুর্নামেন্টের এ পর্যায়ে এসে ফ্রান্সকে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। শক্তিশালী প্রথম একাদশের পাশাপাশি বেঞ্চের গভীরতাও অন্য দলগুলোর তুলনায় এগিয়ে রেখেছে দেশমের দলকে।

স্পেন, ইংল্যান্ড কিংবা আর্জেন্টিনার মতো দলগুলো আক্রমণভাগে ফ্রান্সকে কঠিন চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দলই ফরাসিদের স্বাভাবিক ছন্দ ভাঙতে পারেনি।

তবে বিশ্বকাপের ইতিহাস বারবারই প্রমাণ করেছে, কয়েক মিনিটের একটি ভুল কিংবা একটি মুহূর্তই বদলে দিতে পারে পুরো টুর্নামেন্টের চিত্র। সেই বাস্তবতা মাথায় রেখেই ফ্রান্সকে পরবর্তী ধাপের লড়াইয়ে নামতে হবে। তবু বর্তমান পারফরম্যান্স বিবেচনায় শিরোপার সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের নামই এখন সবার আগে উচ্চারিত হচ্ছে।

নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ