৪ ছক্কার ঝড়ে সাইফউদ্দিন, রিশাদের ঘূর্ণিতে জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে সিরিজে সমতায় বাংলাদেশ
স্পোর্টস ডেস্ক | পকেট নিউজ
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬
দুর্দান্ত ব্যাটিং, শেষ ওভারে অবিশ্বাস্য ঝড় এবং পরে স্পিন আক্রমণের দাপট—সব মিলিয়ে বুলাওয়েতে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। স্বাগতিক জিম্বাবুয়েকে ৩৪ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে টাইগাররা।
এই জয়ের নায়ক একাধিক। উদ্বোধনী জুটিতে তানজিদ হাসান ও সাইফ হাসানের শতরানের জুটি যেমন বাংলাদেশের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়, তেমনি ইনিংসের শেষদিকে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের মাত্র ১০ বলে অপরাজিত ৩১ রানের বিধ্বংসী ইনিংস ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। বল হাতে আবার রিশাদ হোসেনের চার উইকেট জিম্বাবুয়ের রান তাড়াকে পুরোপুরি থামিয়ে দেয়।
উদ্বোধনী জুটিতেই শক্ত ভিত
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিল বাংলাদেশ। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে জিম্বাবুয়ের বোলারদের চাপে রাখেন।
দুজন মিলে প্রথম উইকেটে যোগ করেন ১২০ রান, যা টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উদ্বোধনী জুটি।
তানজিদ ৪৪ বলে ৫৮ রান করেন, যেখানে ছিল চমৎকার কয়েকটি বাউন্ডারি ও নিয়ন্ত্রিত আগ্রাসন। অন্যদিকে সাইফ হাসান খেলেন ৪৫ বলে ৫৫ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস।
তবে সাইফের ইনিংস ভাগ্যেরও সহায়তা পেয়েছে। জিম্বাবুয়ের ফিল্ডাররা তাঁর ক্যাচ পাঁচবার ফেলে দেন, যার পূর্ণ সুবিধা নিয়ে বড় ইনিংস খেলেন এই ডানহাতি ব্যাটার।
হঠাৎ ব্যাটিং ধস
১২০ রানের দুর্দান্ত সূচনার পর হঠাৎই ছন্দ হারায় বাংলাদেশ।
মাত্র ১৩ বলের ব্যবধানে ১৯ রান যোগ করে হারায় পাঁচ উইকেট।
সিকান্দার রাজার বলে সাইফ হাসান বোল্ড হওয়ার পরপরই রিচার্ড এনগারাভা ফিরিয়ে দেন তানজিদকে। এরপর তাওহিদ হৃদয়, পারভেজ হোসেন এবং নুরুল হাসান দ্রুত সাজঘরে ফিরলে বড় সংগ্রহ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়।
একসময় মনে হচ্ছিল বাংলাদেশ ১৫০ রানও স্পর্শ করতে পারবে কি না।
শেষ ওভারে সাইফউদ্দিনের বিস্ফোরণ
ঠিক সেই মুহূর্তেই ম্যাচের চিত্র বদলে দেন ইয়াসির আলী ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।
ইয়াসির মাত্র ১২ বলে অপরাজিত ২২ রান করেন।
আর সাইফউদ্দিন খেলেন ক্যারিয়ারসেরা এক ক্যামিও ইনিংস। মাত্র ১০ বলে অপরাজিত ৩১ রান, যেখানে ছিল চারটি বিশাল ছক্কা।
সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত আসে শেষ ওভারে, যখন তিনি টানা চার বলে চারটি ছক্কা হাঁকিয়ে বাংলাদেশের স্কোর এক লাফে ১৮৬ রানে পৌঁছে দেন।
এই কীর্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে টানা চার বলে চার ছক্কা মারা প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজের নাম লেখান সাইফউদ্দিন।
এটি তাঁর ব্যক্তিগতভাবেও এক প্রতীকী অর্জন। ২০১৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ডেভিড মিলারের কাছে এক ওভারে পাঁচ ছক্কা হজম করার তিক্ত স্মৃতির পর এবার ব্যাট হাতে নিজের নাম ইতিহাসে তুলে রাখলেন তিনি।
বাংলাদেশ নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৮৬ রান সংগ্রহ করে।
শুরুতেই ধাক্কা জিম্বাবুয়েকে
১৮৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে জিম্বাবুয়ে।
প্রথম তিন ওভারের মধ্যেই তারা হারিয়ে ফেলে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট, ফলে ম্যাচে চাপ তৈরি হয় স্বাগতিকদের ওপর।
এরপর সিকান্দার রাজা ও মিল্টন সামুবা কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। দুজন মিলে ৪৪ রানের জুটি গড়ে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেন।
রিশাদের ঘূর্ণিতে শেষ আশা শেষ
জিম্বাবুয়ের প্রতিরোধ ভেঙে দেন তরুণ লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন।
১২ বলে ২৯ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলা সিকান্দার রাজাকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ করিয়ে ফেরান তিনি। এরপর ২০ বলে ১৯ রান করা সামুবাকেও বোল্ড করেন।
রিশাদের আঘাতের পর জিম্বাবুয়ে দ্রুত ৮০ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে।
শেষদিকে রায়ান বার্ল (১৯ বলে ২৯) ও ইভান্স (১৪ বলে ২৫) কিছুটা লড়াই করলেও জয় থেকে অনেক দূরেই থেকে যায় স্বাগতিকরা।
বাংলাদেশের হয়ে রিশাদ হোসেন ৪ উইকেট এবং মেহেদী হাসান ৩ উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দেন।
জয়েও দুশ্চিন্তা
বড় জয়ের মাঝেও বাংলাদেশ শিবিরে রয়েছে একটি উদ্বেগ।
দ্রুতগতির পেসার নাহিদ রানা সাইড স্ট্রেনের চোটে ইনিংসের মাঝপথে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। নিজের তৃতীয় ও ইনিংসের ১৩তম ওভারের মাঝপথে মাঠ ত্যাগ করার পর তিনি আর বোলিংয়ে ফিরতে পারেননি।
আগামী ম্যাচের আগে তাঁর চোটের অবস্থা নিয়ে মেডিকেল দলের মূল্যায়নের অপেক্ষায় থাকবে টিম ম্যানেজমেন্ট।
সিরিজ নির্ধারণ হবে শেষ ম্যাচে
এই জয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে বাংলাদেশ।
ফলে আগামী রোববার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি এখন রূপ নিয়েছে অঘোষিত ফাইনালে। যে দল জিতবে, তারাই সিরিজ নিজেদের করে নেবে।
বাংলাদেশ চাইবে বুলাওয়ের এই আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে সিরিজ জয় নিশ্চিত করতে। অন্যদিকে ঘরের মাঠে সিরিজ হাতছাড়া এড়াতে মরিয়া হয়ে নামবে জিম্বাবুয়ে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ১৮৬/৫ (২০ ওভার)
তানজিদ হাসান ৫৮ (৪৪)
সাইফ হাসান ৫৫ (৪৫)
মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ৩১* (১০)
ইয়াসির আলী ২২* (১২)
জিম্বাবুয়ে: ১৫২ অলআউট (২০ ওভার) (৩৪ রানে পরাজিত)
রায়ান বার্ল ২৯
সিকান্দার রাজা ২৯
রিশাদ হোসেন ৪ উইকেট
মেহেদী হাসান ৩ উইকেট


0 মন্তব্যসমূহ