📢 প্রতিদিনের খেলার সূচি ও লেটেস্ট খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 চাকরির নিয়োগ, পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার কমে ৬২.২৫%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। ------ || ------ 📢 খেলা||- ফুটবল-- আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ------ || ------ 📢 হরমুজ প্রণালি কবে খুলবে, অনিশ্চয়তায় ফের বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম।

বিদ্যুৎ বিতরণ বেসরকারি খাতে দিতে চায় সরকার, জ্বালানি সংকটে আটকে হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ

বিদ্যুৎ বিতরণ বেসরকারি খাতে দিতে চায় সরকার, জ্বালানি সংকটে আটকে হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ

বিদ্যুৎ বিতরণ বেসরকারি খাতে দিতে চায় সরকার, জ্বালানি সংকটে আটকে হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ

গ্যাস অনুসন্ধানে দীর্ঘ অবহেলা, আমদানিনির্ভরতার চাপ, শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত—জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় সংস্কারের ইঙ্গিত দিলেন জ্বালানি উপদেষ্টারা

নিজস্ব প্রতিবেদক, পকেট নিউজ| ২২ জুলাই ২০২৬

দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সংকট কাটিয়ে টেকসই ও বিনিয়োগবান্ধব ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিদ্যুৎ বিতরণ কার্যক্রম ধাপে ধাপে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, সরকারের মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং পাইকারি পর্যায়ে সরবরাহ নিশ্চিত করা। খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিতরণ পরিচালনা করা রাষ্ট্রের কাজ নয়। এই দায়িত্ব বেসরকারি খাতের হাতে গেলে সরকারের আর্থিক চাপ কমবে এবং সেবার মানও উন্নত হবে।

বুধবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে দৈনিক বণিক বার্তা আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রূপান্তর’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সরকারের নীতিনির্ধারক, বিশ্বব্যাংক, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), ব্যবসায়ী সংগঠন, শিল্পোদ্যোক্তা, ব্যাংকার এবং জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা দেশের বিদ্যমান জ্বালানি সংকট, শিল্পখাতের চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

বিদ্যুৎ বিতরণে বেসরকারি বিনিয়োগের আহ্বান

জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই বিদ্যুৎ বিতরণ সফলভাবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। ভারতের মুম্বাইয়ে রিলায়েন্স এবং দিল্লিতে আদানি বিদ্যুৎ বিতরণ করছে। বাংলাদেশেও একই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের সময় এসেছে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, সরকারের সীমিত সম্পদ উৎপাদন ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় হওয়া উচিত। বিদ্যুৎ বিতরণে রাষ্ট্রের সরাসরি ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা কমিয়ে আনলে দক্ষতা বাড়বে এবং পরিচালন ব্যয়ও কমে আসবে। এ জন্য দেশীয় উদ্যোক্তাদের এখন থেকেই বিনিয়োগের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

১৭ বছরে গ্যাস অনুসন্ধানে অবহেলা, বাড়ছে আমদানিনির্ভরতা

দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে দীর্ঘদিন গ্যাস অনুসন্ধানে অবহেলার কথা তুলে ধরেন ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে কার্যকরভাবে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অথচ পর্যাপ্ত প্রাথমিক জ্বালানির নিশ্চয়তা ছাড়াই একের পর এক গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, খুলনায় নির্মিত তিনটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পর্যাপ্ত গ্যাসের অভাবে কার্যত অলস পড়ে রয়েছে। একই সময়ে এলএনজি আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও যথাসময়ে গড়ে তোলা হয়নি। ফলে চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

মন্ত্রী আরও জানান, সম্প্রতি একটি এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের কারণে গ্যাস সরবরাহ আরও কমে গেছে। বিদ্যুৎ খাতে বর্তমানে প্রায় ৬৭ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে এবং বকেয়া পরিশোধের জন্য পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ক্যাপাসিটি চার্জ এখনো বড় বোঝা

জ্বালানি খাতের আর্থিক সংকটের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জ এখনো সরকারের জন্য বড় চাপ। অনেক কেন্দ্র উৎপাদন না করলেও চুক্তি অনুযায়ী সরকারকে বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। কারণ এসব চুক্তির বিপরীতে সার্বভৌম গ্যারান্টি রয়েছে।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানি করতে গেলে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। সরকার ইতোমধ্যে বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে বিক্রি করছে, যার ফলে ভর্তুকির চাপও বাড়ছে।

গ্যাস–সংযোগ না পেয়ে আটকে শিল্প বিনিয়োগ

অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী ও ব্যবসায়ী নেতারা জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্প উৎপাদন এবং নতুন বিনিয়োগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার চিত্র তুলে ধরেন।

ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। বিদ্যমান শিল্পকারখানাগুলো যেমন সমস্যায় পড়ছে, তেমনি নতুন দেশি-বিদেশি বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জ্বালানি নিশ্চিত না হলে বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে আগ্রহ হারাবেন।

মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল জানান, গ্যাস–সংযোগের জন্য অর্থ জমা দিয়েও দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ফলে হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আটকে আছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, গ্যাস না পেলে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে, যার প্রভাব পড়বে হাজারো শ্রমিকের কর্মসংস্থানের ওপর।

ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহসান জামান চৌধুরী জানান, শুধু তাঁদের ব্যাংকেরই ৭ থেকে ৮ হাজার কোটি টাকার শিল্পঋণ গ্যাস–সংকটের কারণে ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

ওষুধশিল্পে বাড়ছে উৎপাদন ঝুঁকি

মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এমসিসিআই) সহসভাপতি এবং ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন রহমান বলেন, শিল্পের জন্য শুধু বিদ্যুৎ থাকলেই হবে না, নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষ করে ওষুধশিল্পের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একটি ইনজেকশন উৎপাদনের সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটলে পুরো উৎপাদন ব্যাচ বাতিল করতে হয়, যার ফলে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে। আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এখন অত্যন্ত জরুরি।

বিশ্বব্যাংকের সতর্কবার্তা

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানবিষয়ক ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেম বলেন, জ্বালানি খাত শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয় নয়; এটি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং প্রতিযোগিতা সক্ষমতার ভিত্তি।

তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে বাংলাদেশের গ্যাসের ৩০ শতাংশ, তেলের ৯৫ শতাংশ এবং কয়লার ৯০ শতাংশই আমদানিনির্ভর। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি বা সরবরাহ ব্যাহত হলে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

গ্যাস অনুসন্ধান ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, দেশের স্থলভাগ ও সমুদ্রে পর্যাপ্ত অনুসন্ধান না হওয়ায় গ্যাসের প্রকৃত মজুত সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা নেই। এখন নতুন অনুসন্ধান শুরু হলেও ফল পেতে অন্তত পাঁচ বছর সময় লাগবে।

বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ও আইইউবির উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, বাংলাদেশের মূল সমস্যা প্রাথমিক জ্বালানির আমদানিনির্ভরতা। এই নির্ভরতা কমাতে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই।

অন্যদিকে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির সাবেক চেয়ারম্যান এম. রিজওয়ান খান বলেন, পরিকল্পনাহীনভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দিলে দীর্ঘমেয়াদে ব্যয় কমবে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী হবে।

নীতিগত সংস্কারের আহ্বান

আলোচনায় অংশ নেওয়া বিশেষজ্ঞরা বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ, নীতিগত স্বচ্ছতা এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ।

তাঁদের মতে, বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণে জ্বালানি খাতে দ্রুত সংস্কার, আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ—সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব আরও গভীর হতে পারে।

আরো পড়ুন
পোস্ট লোড হচ্ছে...

নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ