📢 প্রতিদিনের খেলার সূচি ও লেটেস্ট খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 চাকরির নিয়োগ, পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার কমে ৬২.২৫%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। ------ || ------ 📢 খেলা||- ফুটবল-- আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ------ || ------ 📢 হরমুজ প্রণালি কবে খুলবে, অনিশ্চয়তায় ফের বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম।

আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচের রেফারিং বিতর্কে মুখ খুললেন কোলিনা

 

আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচের রেফারিং বিতর্কে মুখ খুললেন কোলিনা

আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচের রেফারিং বিতর্কে মুখ খুললেন কোলিনা

‘ফাউল মানে ফাউল, ভিএআরের সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব খাটানো হয় না’

স্পোর্টস ডেস্ক, পকেট নিউজ| ০৯ জুলাই ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনা ও মিসরের মধ্যকার রোমাঞ্চকর ম্যাচ ঘিরে যে রেফারিং বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কোলিনা। ইতালির কিংবদন্তি এই সাবেক রেফারি বলেছেন, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তি সম্পূর্ণভাবে ফুটবলের আইন অনুসরণ করেই ব্যবহৃত হয়েছে এবং ম্যাচ পরিচালনায় কোনো ধরনের বাহ্যিক প্রভাব বা পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই।

ফিফার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে কোলিনা বলেন, বিশ্বকাপে রেফারিদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত স্বাধীনভাবে নেওয়া হয় এবং তাদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ম্যাচ পরিচালনায় ফিফা সভাপতি বা অন্য কোনো ব্যক্তি প্রভাব বিস্তার করেন—এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

বিশ্বকাপের রেফারিং নিয়ে সন্তুষ্ট ফিফা

বিশ্বকাপের শেষ ষোলো পর্ব শেষে টুর্নামেন্টের সার্বিক রেফারিং নিয়ে মূল্যায়ন করতে গিয়ে কোলিনা জানান, এখন পর্যন্ত ৯৬টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের একই পর্যায়ের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। ব্যস্ত সূচির কারণে কিছু ভুল বা বিতর্ক তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তাঁর ভাষায়, রেফারিরাও খেলোয়াড় ও কোচদের মতো মানুষ। কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তারা সেটি বিশ্লেষণ করেন এবং পরবর্তী ম্যাচে আরও ভালো পারফরম্যান্সের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেন। তবে ভুল নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা গ্রহণযোগ্য হলেও ভিত্তিহীন অভিযোগ বা ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব ফুটবলের জন্য ক্ষতিকর।

‘রেফারিদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা অনুচিত’

কোলিনা বলেন, বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালনকারী ম্যাচ কর্মকর্তাদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা শুধু তাঁদের জন্য নয়, তাঁদের পরিবারের জন্যও ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিত্তিহীন সমালোচনা ও ব্যক্তিগত আক্রমণ উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ফিফার রেফারিং ব্যবস্থাকে কেউ প্রভাবিত করতে পারে না। এমনকি ফিফা সভাপতিও ম্যাচ পরিচালনায় কোনো ধরনের নির্দেশনা বা হস্তক্ষেপ করেন না। ম্যাচ কর্মকর্তাদের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয় এবং তাদের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে ফুটবলের আইন ও প্রমাণের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়।

কেন বাতিল হয়েছিল মিসরের গোল

সাক্ষাৎকারে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচে মিসরের একটি গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত। ম্যাচের পর এ সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সাবেক ফুটবলার এবং বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

কোলিনা ব্যাখ্যা করেন, প্রতিটি গোলের পর ভিএআর পুরো আক্রমণভাগের সূচনা থেকে গোল হওয়া পর্যন্ত ঘটনাপ্রবাহ পর্যালোচনা করে। ফুটবলের ভাষায় একে বলা হয় ‘অ্যাটাকিং পজিশন ফেজ’ (এপিপি)

এই পর্যালোচনায় যদি দেখা যায় যে গোল হওয়ার আগে আক্রমণ গড়ে ওঠার সময় কোনো ফাউল হয়েছে এবং সেই ফাউল গোলের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত, তাহলে ভিএআর মাঠের রেফারিকে ভিডিও পর্যালোচনার পরামর্শ দেয়।

তিনি বলেন, গোল হওয়ার আগে ফাউলটি কত দূরে হয়েছে বা কত সময় আগে ঘটেছে—এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সেই ফাউল গোল তৈরির প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রেখেছে কি না।

মারওয়ান আত্তিয়ার ফাউলের ব্যাখ্যা

কোলিনার মতে, আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচে মিসরের মিডফিল্ডার মারওয়ান আত্তিয়া বল দখলের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের পায়ে স্পষ্টভাবে আঘাত করেছিলেন।

তিনি বলেন, মাঠের রেফারি ঘটনাটি সরাসরি দেখতে না পেলেও ভিডিও রিপ্লেতে সেটি স্পষ্ট ছিল। তাই ভিএআরের হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণ নিয়মসিদ্ধ।

কোলিনার ভাষায়, “আমাদের অবস্থান পরিষ্কার—ফাউল মানে ফাউল। রেফারি না দেখলেও যদি ভিডিওতে স্পষ্ট ফাউল ধরা পড়ে, তাহলে ভিএআরের হস্তক্ষেপ করতেই হবে।”

আরো পড়ুন
পোস্ট লোড হচ্ছে...

সালাহ–আলভারেজ সংঘর্ষ কেন ফাউল নয়

ম্যাচের শেষ দিকে মোহাম্মদ সালাহ ও হুলিয়ান আলভারেজের মধ্যে হওয়া আরেকটি বিতর্কিত সংঘর্ষ নিয়েও ব্যাখ্যা দেন কোলিনা।

তিনি বলেন, ওই ঘটনায় আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় আগে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন। এরপর যে শারীরিক সংঘর্ষ হয়েছে, সেটি ফুটবলের স্বাভাবিক অংশ। তাই সেটিকে ফাউল হিসেবে গণ্য করা হয়নি।

কোলিনার মতে, বলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর স্বাভাবিক শারীরিক সংস্পর্শ সবসময় ফাউল হয় না। এ কারণেই ওই ঘটনায় রেফারি কিংবা ভিএআর কোনো হস্তক্ষেপ করেননি।

বিতর্ক থাকবেই, তবে নিয়মের প্রয়োগে সন্তুষ্ট ফিফা

ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা স্বীকার করেন, ফুটবলের কিছু সিদ্ধান্ত সবসময়ই ব্যাখ্যার সুযোগ রেখে দেয়। ফলে বিভিন্ন পক্ষের মতভেদ থাকতেই পারে। তবে পুরো টুর্নামেন্টে একই নীতিতে নিয়ম প্রয়োগ করা হয়েছে এবং সেই ধারাবাহিকতায় ফিফা সন্তুষ্ট।

তিনি বলেন, রেফারিং নিয়ে আলোচনা ফুটবলের অংশ হলেও সেটি যেন তথ্য ও নিয়মের ভিত্তিতে হয়। অনুমাননির্ভর অভিযোগ বা ষড়যন্ত্রের অভিযোগ বিশ্ব ফুটবলের জন্য ইতিবাচক নয়।

কোয়ার্টার ফাইনালের আগে বার্তা

বিশ্বকাপ এখন কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বারপ্রান্তে। সামনে আরও গুরুত্বপূর্ণ আটটি ম্যাচ বাকি। এমন সময়ে কোলিনার এই ব্যাখ্যা স্পষ্ট করে দিয়েছে, ভিএআর প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য বিতর্ক সৃষ্টি নয়; বরং মাঠের ভুল সিদ্ধান্ত সংশোধন করে ন্যায্য ফল নিশ্চিত করা।

ফিফা আশা করছে, টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতেও একই মানদণ্ডে রেফারিং পরিচালিত হবে এবং মাঠের ফল নির্ধারিত হবে শুধুই খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে, কোনো বিতর্কে নয়।

নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ