কক্সবাজারে টানা বৃষ্টিতে ভয়াবহ পাহাড়ধস: ৯ জনের মৃত্যু, আরও ধসের আশঙ্কা
নিজস্ব প্রতিবেদক, পকেট নিউজ | ৬ জুলাই ২০২৬
টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারে ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনায় অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে কক্সবাজার পৌরসভার ছাত্তারের ঘোনায় একজন স্থানীয় বাসিন্দা এবং উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে নারী-শিশুসহ আটজন রয়েছেন। উদ্ধারকাজ এখনও চলছে এবং প্রশাসন জানিয়েছে, অতি ভারী বৃষ্টির কারণে আরও পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে।
পৌর এলাকায় পাহাড়ধসে প্রাণ গেল এক ব্যক্তির
সোমবার ভোর প্রায় ৪টার দিকে কক্সবাজার পৌরসভার ছাত্তারের ঘোনা এলাকায় পাহাড়ের একটি অংশ ধসে একটি বসতঘরের ওপর পড়ে। এতে ঘরের ভেতরে থাকা একই পরিবারের তিন সদস্য মাটিচাপা পড়েন।
স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক আলী আকবর (৪৫)-কে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর দুই সদস্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানান, টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি বসতি থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে প্রাণ গেল ৮ জনের
রোববার দিবাগত রাত ১টা থেকে ভোর ৩টার মধ্যে উখিয়ার জামতলী, কুতুপালং ও বালুখালী রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পৃথক তিনটি পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ আটজনের মৃত্যু হয়েছে।
জামতলী আশ্রয়শিবিরের একটি ব্লকে পাহাড়ধসে একই পরিবারের তিনজন নিহত হন। তারা হলেন কামাল হোসাইন (৪৪), তাঁর স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাস। এ ঘটনায় পরিবারের আরও দুজন আহত হয়েছেন।
কুতুপালং আশ্রয়শিবিরে পাহাড়ধসে মো. একরাম (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে বালুখালী আশ্রয়শিবিরে পৃথক ঘটনায় একই পরিবারের চার সদস্য নিহত হন। তারা হলেন উম্মে হাবিবা (২৭), তানজিনা আক্তার (১৩), হারুনুর রশিদ (৩) এবং মোহাম্মদ রিহান (৫)।
ফায়ার সার্ভিস, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকদের যৌথ অভিযানে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
আরও পাহাড়ধসের আশঙ্কা
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানিয়েছেন, অতি ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি এখনও অত্যন্ত বেশি। বিশেষ করে পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারী হাজারো রোহিঙ্গা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের জন্য গড়ে তোলা ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বসবাস করছেন। এর মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার রোহিঙ্গা ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান করছেন। প্রতি বর্ষা মৌসুমেই এসব শিবিরে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটছে এবং প্রাণহানির ঘটনা সামনে আসছে।
২৪ ঘণ্টায় ২৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ২৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আবদুল হান্নান জানান, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আগামী আরও দুই দিন একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের সতর্কতা
টানা বর্ষণের কারণে কক্সবাজারের পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোও পাহাড়সংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস না করার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন পাহাড়ধস মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিস, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজের সঙ্গে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online


0 মন্তব্যসমূহ