📢 প্রতিদিনের খেলার সূচি ও লেটেস্ট খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 চাকরির নিয়োগ, পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার কমে ৬২.২৫%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। ------ || ------ 📢 খেলা||- ফুটবল-- আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ------ || ------ 📢 হরমুজ প্রণালি কবে খুলবে, অনিশ্চয়তায় ফের বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম।

৬০০ আবাসিক মডেল স্কুল-কলেজ গড়ার পরিকল্পনা

 

৬০০ আবাসিক মডেল স্কুল-কলেজ গড়ার পরিকল্পনা, ব্যয় হতে পারে ৬৮ হাজার কোটি টাকা

 ৬০০ আবাসিক মডেল স্কুল-কলেজ গড়ার পরিকল্পনা, ব্যয় হতে পারে ৬৮ হাজার কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, পকেট নিউজ | ৬ জুলাই ২০২৬

দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন যুগের সূচনা করতে ক্যাডেট কলেজের আদলে ৩০০টি সংসদীয় আসনে ৬০০টি আধুনিক আবাসিক মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিটি সংসদীয় আসনে ছেলেদের জন্য একটি এবং মেয়েদের জন্য একটি সরকারি আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। এসব প্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে এবং এইচএসসি পর্যন্ত পাঠদান করা হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সরকারের নির্দেশনায় ‘নির্বাচিত এলাকাসমূহে ৬০০টি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ নির্মাণ প্রকল্প’ শীর্ষক একটি প্রাথমিক প্রস্তাব তৈরি করেছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে পাঁচ বছরে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হতে পারে প্রায় ৬৮ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা

সরকারি শিক্ষায় ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ গড়ার উদ্যোগ

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য সরকারি পর্যায়ে আন্তর্জাতিক মানের ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ গড়ে তোলা, যাতে দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা উচ্চমানের আবাসিক শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায়।

তিনি বলেন, শুধু নতুন প্রতিষ্ঠান নির্মাণ নয়, বিদ্যমান সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মানোন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিক্ষকসংকট দূর করতেও সরকার সমান গুরুত্ব দিচ্ছে।

প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে থাকবে আধুনিক অবকাঠামো

মাউশির প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রায় ৩ একর জমি প্রয়োজন হবে। জমি অধিগ্রহণেই ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা

এ ছাড়া প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে নির্মাণ করা হবে—

  • ১০ তলাবিশিষ্ট একাডেমিক ভবন

  • পৃথক আবাসিক হোস্টেল

  • আধুনিক বিজ্ঞান ও কম্পিউটার ল্যাব

  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ল্যাব

  • প্রযুক্তিনির্ভর শ্রেণিকক্ষ ও অন্যান্য শিক্ষা-সহায়ক অবকাঠামো

প্রস্তাব অনুযায়ী—

  • ৬০০টি একাডেমিক ভবন নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা

  • ৬০০টি ছাত্র-ছাত্রী হোস্টেল নির্মাণে ব্যয় হবে ৬ হাজার কোটি টাকা

  • ৬০০টি এআই ল্যাব স্থাপনে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা

প্রশাসনিক ব্যয়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে মোট ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ৬৮ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নে বৈদেশিক ঋণ সহায়তা নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

শিক্ষায় বৈষম্য কমানোর লক্ষ্য

মাউশি বলছে, দেশের গ্রামীণ, দুর্গম ও অবকাঠামোগতভাবে পিছিয়ে থাকা অঞ্চলে এখনো সমমানের আধুনিক শিক্ষাসুবিধা পৌঁছায়নি। নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষাক্ষেত্রে সামাজিক ও ভৌগোলিক বৈষম্য কমিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

মাউশির মহাপরিচালক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ বলেন, প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে পিছিয়ে থাকা এলাকায় উচ্চমানের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা। তবে চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে প্রকল্পের ব্যয়, প্রয়োজনীয়তা, সম্ভাব্যতা এবং বিদ্যমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নের বিষয়গুলো বিবেচনা করা হবে।

বিশেষজ্ঞদের মত: প্রয়োজন সমীক্ষা ও বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা

শিক্ষাবিদদের মতে, সরকারি আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও কোথায় এ ধরনের প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তা নির্ধারণে 'স্কুল ম্যাপিং' বা সমীক্ষা জরুরি।

তাঁদের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রাম, হাওরাঞ্চল, চরাঞ্চল, উপকূলীয় অঞ্চল এবং শিক্ষাবঞ্চিত দুর্গম এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দিলে প্রকল্পটি অধিক কার্যকর হতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ মাহবুব মোর্শেদ বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য প্রশংসনীয় হলেও দেশের প্রতিটি এলাকায় আবাসিক মডেল স্কুল প্রয়োজন কি না, তা বাস্তবতার আলোকে মূল্যায়ন করা উচিত। তাঁর মতে, নতুন প্রতিষ্ঠান নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান বিদ্যালয়গুলোর মানোন্নয়নেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী রয়েছে ৯৪ লাখের বেশি। এর মধ্যে প্রায় ৭৮ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে ১৯ হাজারের বেশি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে।

অন্যদিকে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে অনুমোদিত ১৫ হাজার ২৯৩টি শিক্ষক পদের মধ্যে ২ হাজার ৮৪২টি পদ শূন্য, যা মোট পদের ১৮ শতাংশেরও বেশি।

মাউশির গবেষণায় দেখা গেছে, মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা বিশেষ করে গণিত ও ইংরেজিতে উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে রয়েছে। পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে মানসম্মত পাঠদানের অভাবে শিক্ষার্থীরা কোচিং ও গৃহশিক্ষকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

ইউনেসকোর ২০২৩ সালের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে মোট ব্যয়ের প্রায় ৭১ শতাংশই বহন করতে হয় পরিবারগুলোকে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বড় চাপ সৃষ্টি করছে।

আরও পড়ুন

গ্রামের লোডশেডিংয়ের পেছনে ‘কারিগরি ত্রুটি’, বিদ্যুৎ ঘাটতি নয়: বিদ্যুৎমন্ত্রী

বিস্তারিত পড়ুন এখানে

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব

শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, অতীতেও বিভিন্ন সময়ে মডেল স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সব ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। অনেক প্রতিষ্ঠানে অবকাঠামো নির্মিত হলেও শিক্ষকসংকট, ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত না হওয়ায় প্রত্যাশিত সাফল্য আসেনি।

তাঁদের পরামর্শ, নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে আগের উদ্যোগগুলোর সাফল্য-ব্যর্থতার মূল্যায়ন, পরিচালন ব্যয়ের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়গুলো সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের সরকারি শিক্ষাব্যবস্থায় একটি নতুন মানদণ্ড তৈরি হতে পারে। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে যথাযথ পরিকল্পনা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, মানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার ওপর।

নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ