📢 প্রতিদিনের খেলার সূচি ও লেটেস্ট খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 চাকরির নিয়োগ, পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার কমে ৬২.২৫%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। ------ || ------ 📢 খেলা||- ফুটবল-- আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ------ || ------ 📢 হরমুজ প্রণালি কবে খুলবে, অনিশ্চয়তায় ফের বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম।

ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের শিবির থেকে বিদায়: ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী হওয়ার জোর গুঞ্জন

 

ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের শিবির থেকে বিদায়: ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী হওয়ার জোর গুঞ্জন

ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের শিবির থেকে বিদায়: ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী হওয়ার জোর গুঞ্জন

ছাত্ররাজনীতি থেকে নগর রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও দলীয় সূত্রে জোরালো আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক , পকেট নিউজ| ১৩ জুলাই ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) মো. আবু সাদিক, যিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে সাদিক কায়েম নামে পরিচিত, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদকের দায়িত্ব থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়েছেন। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তিনি ছাত্রশিবিরে তাঁর দীর্ঘ সাংগঠনিক জীবনের সমাপ্তির ঘোষণা দেন। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে এই বিদায়কে শুধুমাত্র সাংগঠনিক রদবদল হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকেরা। বরং এটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে তাঁর আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতির অংশ বলেই আলোচনা জোরালো হয়েছে।

যদিও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি, তবুও দলীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে সাদিক কায়েমই দলের সবচেয়ে সম্ভাব্য মুখ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদায়ের ঘোষণা

সোমবার বিকেলে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে ছাত্রশিবিরের দায়িত্ব থেকে বিদায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাদিক কায়েম।

তিনি লেখেন,

"দেখতে দেখতে দীর্ঘ এক সোনালি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। সংগঠনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে আজ আমার আনুষ্ঠানিক ছুটি হয়েছে। সবকিছুর জন্য আল্লাহর কাছে অগণিত শুকরিয়া আদায় করছি। জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ও প্রোডাক্টিভ সময়গুলো কেটেছে এই কাফেলার সঙ্গে।"

পোস্টে তিনি ছাত্রশিবিরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সংগঠনের নেতা-কর্মীদের জন্য দোয়া কামনা করেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিদায়ের ভাষায় ব্যক্তিগত আবেগ থাকলেও এর পেছনে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনার স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে।

মেয়র প্রার্থী হিসেবে সাদিক কায়েমের নাম চূড়ান্ত?

জামায়াতের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, গত মাসে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সাদিক কায়েমের নাম অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে দলীয় নীতিমালা অনুযায়ী চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে জামায়াতের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পরিষদ মজলিশে শুরা। সেই বৈঠকের পরই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে।

দলের নেতারা বলছেন, সাংগঠনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে না।

জামায়াতের বক্তব্য কী?

এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ছাত্রশিবির একটি স্বতন্ত্র সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হয়।

তাঁর ভাষায়, ছাত্রজীবন শেষ হলে, বিবাহিত জীবন শুরু করলে কিংবা পেশাজীবনে প্রবেশ করলে সংগঠন থেকে বিদায় নেওয়া ছাত্রশিবিরের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক রীতি।

তবে সাদিক কায়েম মেয়র প্রার্থী হওয়ার কারণেই শিবির ছেড়েছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ শাখা ইতোমধ্যে তাঁকে মেয়র পদে মনোনীত করেছে এবং কেন্দ্রীয় জামায়াতও এ বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। সময়মতো ঢাকা দক্ষিণসহ অন্যান্য সিটি করপোরেশনের প্রার্থীদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

এই বক্তব্যের মাধ্যমে রাজনৈতিক অঙ্গনে সাদিক কায়েমের প্রার্থিতা নিয়ে চলমান জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।

সাদিক কায়েম কী বললেন

নিজের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে সরাসরি কিছু বলতে চাননি সাদিক কায়েম।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,

"আমি নিয়মতান্ত্রিক উপায়েই সংগঠন থেকে ছুটি নিয়েছি। বাকিটা সময় বলে দেবে সামনে কী হবে।"

তাঁর এই সংক্ষিপ্ত মন্তব্যও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

ছাত্রশিবিরের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া কী?

ছাত্রশিবিরের এক কেন্দ্রীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সাদিক কায়েমের বিদায় কোনো ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়।

তিনি বলেন, সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ী যেসব নেতার ছাত্রজীবন শেষ হয় অথবা যারা পেশাজীবনে প্রবেশ করেন, তারা কেন্দ্রীয় সভাপতির কাছে ছুটির আবেদন করেন।

ছয় মাস পর প্রয়োজন অনুযায়ী সেই আবেদন অনুমোদন করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।

তিনি আরও জানান, গত বছরও প্রায় ২০ জন কেন্দ্রীয় নেতা মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই একই প্রক্রিয়ায় সংগঠন থেকে বিদায় নিয়েছিলেন।

তবে সাদিক কায়েম ডাকসুর ভিপি হওয়ায় তাঁর বিদায় রাজনৈতিকভাবে অনেক বেশি আলোচনায় এসেছে।

আরও পড়ুন
পোস্ট লোড হচ্ছে...

একসঙ্গে বিদায় নিলেন আরও আট কেন্দ্রীয় নেতা

সাদিক কায়েম ছাড়াও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির আরও আটজন নেতা সংগঠন থেকে বিদায় নিয়েছেন।

তাঁরা হলেন—

  • কেন্দ্রীয় মিডিয়া সম্পাদক মুতাসিম বিল্লাহ

  • এইচআরডি সম্পাদক শরীফ মাহমুদ

  • ছাত্র অধিকার সম্পাদক মুহিবুর রহমান

  • প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম

  • ব্যবসায় শিক্ষা সম্পাদক নুরুল হুদা

  • পাঠাগার সম্পাদক আরাফাত হোসেন

  • বিতর্ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান

  • দাওয়াহ সম্পাদক শাহীন আহমেদ

কেন্দ্রীয় মিডিয়া সম্পাদক মুতাসিম বিল্লাহ জানান, এটি সম্পূর্ণ সাংগঠনিক নিয়মের অংশ। পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর পেশাজীবনে প্রবেশের প্রস্তুতি হিসেবে অনেকেই সংগঠন থেকে ছুটি নেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনকে ঘিরে নতুন সমীকরণ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে চাইছে জামায়াতে ইসলামী।

সে ক্ষেত্রে তরুণ, শিক্ষিত এবং পরিচিত মুখ হিসেবে সাদিক কায়েমকে সামনে আনার কৌশল দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

ডাকসু নির্বাচনে আলোচিত নেতৃত্ব, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় উপস্থিতি তাঁকে তরুণ ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।

ডাকসু থেকে নগর রাজনীতি—নতুন যাত্রার সম্ভাবনা

ডাকসুর ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি পাওয়া সাদিক কায়েমের সামনে এখন নগর রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

যদিও জামায়াত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর প্রার্থিতা ঘোষণা করেনি, তবে দলীয় সূত্র, কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্য এবং ছাত্রশিবির থেকে তাঁর বিদায়ের সময়কাল—সবকিছু মিলিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তাঁকে ঘিরেই রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু তৈরি হয়েছে।

এখন সবার নজর জামায়াতের মজলিশে শুরার বৈঠকের দিকে। সেই বৈঠকের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে, ছাত্ররাজনীতির পরিচিত মুখ সাদিক কায়েম এবার রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক ময়দানে নামছেন কি না।

নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ