📢 প্রতিদিনের খেলার সূচি ও লেটেস্ট খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 চাকরির নিয়োগ, পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার কমে ৬২.২৫%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। ------ || ------ 📢 খেলা||- ফুটবল-- আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ------ || ------ 📢 হরমুজ প্রণালি কবে খুলবে, অনিশ্চয়তায় ফের বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ: ঢাকা বোর্ড ঘেরাও, মহাসড়ক অবরোধে অচল যোগাযোগ

 

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ: ঢাকা বোর্ড ঘেরাও, মহাসড়ক অবরোধে অচল যোগাযোগ

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ: ঢাকা বোর্ড ঘেরাও, মহাসড়ক অবরোধে অচল যোগাযোগ

এইচএসসি পরীক্ষা ঘিরে ক্ষোভ তীব্র, প্রশ্নপত্রে ভুল ও বৈরী আবহাওয়ায় পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ; রাজধানীসহ অন্তত চার জেলায় বিক্ষোভ, প্রশাসনের কড়া নজরদারি

নিজস্ব প্রতিবেদক, পকেট নিউজ| ১৪ জুলাই ২০২৬

বৈরী আবহাওয়া, টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা এবং এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ভুল ও অতিরিক্ত কঠিন প্রশ্নের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সারাদেশে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নতুন মাত্রা পেয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও সমাবেশের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত এবং পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার সংস্কারের দাবিও তুলেছেন তারা।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল থেকে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, বকশীবাজারে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সামনে, উত্তরা, বরিশাল, বগুড়া, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক অবরোধের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।

রাজধানীতে আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু সায়েন্স ল্যাব ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ড

রাজধানীতে আন্দোলনের সূচনা হয় সায়েন্স ল্যাব মোড়ে। সকাল থেকেই বিভিন্ন কলেজের শত শত শিক্ষার্থী সেখানে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তাঁরা মিরপুর সড়ক অবরোধ করে রাখেন। এতে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এই সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

আন্দোলনে অংশ নেয় ঢাকা সিটি কলেজ, ঢাকা আইডিয়াল কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ, লালমাটিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বিএএফ শাহীন কলেজ, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ অন্তত ১২ থেকে ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

অবরোধ চলাকালে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাদের মধ্যে ছিল—

  • "দফা এক, দাবি এক—শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ"

  • "শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি মানতে হবে"

  • "আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম"

  • "ভুয়া, ভুয়া"

এক ঘণ্টার বেশি সময় অবরোধের পর শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ঢাকা কলেজের দিকে এবং আরেকটি অংশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে অগ্রসর হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পুলিশের বাধা

সায়েন্স ল্যাব থেকে মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরের দিকে গেলে পুলিশ তাদের অগ্রযাত্রায় বাধা দেয়।

পরে শিক্ষার্থীরা পলাশী, নীলক্ষেত হয়ে টিএসসিগামী সড়কে অবস্থান নেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থান নেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সামনে উত্তেজনা

দুপুরের পর আন্দোলনের কেন্দ্রস্থল হয়ে ওঠে বকশীবাজারে অবস্থিত ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।

বেলা পৌনে তিনটার দিকে শত শত শিক্ষার্থী বোর্ড ভবনের সামনে অবস্থান নেন। সেখানে তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন।

একপর্যায়ে কিছু শিক্ষার্থী বোর্ড ভবনের মূল ফটকে ধাক্কা দেন এবং ইট নিক্ষেপ করেন। ফলে সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বোর্ড ভবনের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।

উত্তরায় মহাসড়ক অবরোধ

রাজধানীর উত্তরা বিএনএস সেন্টারের সামনে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।

এর ফলে মহাসড়কে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

উত্তরা ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বিকেল পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি।

বরিশালে ঢাকা–বরিশাল মহাসড়ক বন্ধ

বরিশালেও আন্দোলনের প্রভাব ছিল উল্লেখযোগ্য।

দুপুর সোয়া ১২টার দিকে নগরীর বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডের সামনে ঢাকা–বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করেন।

অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে।

যাত্রীরা দীর্ঘ সময় দুর্ভোগে পড়েন।

কুমিল্লা, বগুড়া ও ময়মনসিংহেও বিক্ষোভ

কুমিল্লায় "কুমিল্লার সচেতন শিক্ষার্থী সমাজ" ব্যানারে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

পরে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে গিয়ে বিক্ষোভ করেন।

বগুড়ায় সাতমাথা থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

সেখানে শিক্ষার্থীরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

অন্যদিকে ময়মনসিংহ নগরের টাউন হল এলাকায় শিক্ষার্থীরা ময়মনসিংহ–টাঙ্গাইল মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে অবরোধ করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, আন্দোলন শান্তিপূর্ণ থাকলেও যান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

কেন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা?

শিক্ষার্থীদের অভিযোগের মূল কারণ দুটি—

প্রথমত, টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত না করে যথাসময়ে নেওয়া হয়েছে।

তাদের দাবি, অনেক পরীক্ষার্থী সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি।

অনেকের প্রবেশপত্র বৃষ্টিতে নষ্ট হয়েছে।

অনেকে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।

দ্বিতীয়ত, পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে একাধিক ভুল ছিল এবং প্রশ্নের মান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সমপর্যায়ের কঠিন ছিল বলে অভিযোগ করেন পরীক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের বক্তব্য

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত বলেন,

"আটটি প্রশ্নের মধ্যে দুটি প্রশ্নই ভুল ছিল। বাকি প্রশ্নগুলোও অত্যন্ত কঠিন। যদি আমরা ফেল করি, তাহলে এর দায় কে নেবে?"

ঢাকা আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী আহনাফ মুনজি বলেন,

"বৈরী আবহাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষাই দিতে পারেনি। কেউ রাস্তায় পড়ে গেছে, কারও অ্যাডমিট কার্ড নষ্ট হয়েছে। যিনি শিক্ষার্থীদের এই দুর্ভোগ বিবেচনা করতে পারেন না, আমরা তাঁর পদত্যাগ চাই।"

পুলিশের বক্তব্য

রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রব্বানী হোসেন জানান,

সায়েন্স ল্যাব এলাকায় শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেওয়ার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

অন্যদিকে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আসাদুজ্জামান শাকিল বলেন,

শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন প্রশ্ন

শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন শুধু একটি পরীক্ষা বা প্রশ্নপত্রের সীমাবদ্ধতায় আটকে নেই। বরং এটি দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগকালে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রশ্নপত্র প্রণয়নের মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা পরিচালনা, প্রশ্নপত্রের মান নিয়ন্ত্রণ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আরও সমন্বিত নীতিমালা প্রয়োজন।

সামনে কী হতে পারে?

শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, প্রশ্নপত্রের ত্রুটির তদন্ত এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

বিভিন্ন জেলায় আন্দোলন অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এখন সরকারের পক্ষ থেকে কী ধরনের সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেটিই নির্ধারণ করবে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হবে, নাকি আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতির সমাধান হবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষা প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—শিক্ষার্থীদের আস্থা পুনরুদ্ধার, পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এমন সংকট এড়াতে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা।

আরো পড়ুন
পোস্ট লোড হচ্ছে...

নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ