এসএসসি উত্তীর্ণদের জন্য ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের বৃত্তি, আবেদন ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক | পকেট নিউজ
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পড়াশোনায় সহায়তা দিতে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক। দীর্ঘদিন ধরে দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য এই বৃত্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে ব্যাংকটি। এবারও নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণকারী শিক্ষার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
বৃত্তির জন্য আবেদন করা যাবে ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে ২২ সেপ্টেম্বর।
কারা আবেদন করতে পারবেন
ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের বৃত্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবস্থান অনুযায়ী জিপিএর যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সিটি করপোরেশন ও জেলা শহর এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের চতুর্থ বিষয় বাদে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ থাকতে হবে।
অন্যদিকে গ্রামীণ ও অনগ্রসর এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম জিপিএ ৪ দশমিক ৮৩ নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে শুধু ফলাফল ভালো হলেই বৃত্তি পাওয়ার সুযোগ থাকবে না। শিক্ষার্থীর আর্থিক অসচ্ছলতার বিষয়টিও বৃত্তি প্রদানের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হবে।
বৃত্তির বড় অংশ গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের জন্য
ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এবারের বৃত্তি কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো গ্রামীণ ও অনগ্রসর অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুযোগ রাখা।
মোট বৃত্তির ৯০ শতাংশ গ্রামীণ ও অনগ্রসর এলাকায় অবস্থিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মোট বৃত্তির ৫০ শতাংশ ছাত্রীদের দেওয়ার কথা জানিয়েছে ব্যাংকটি।
এর ফলে প্রত্যন্ত ও অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে থাকা এলাকার মেধাবী শিক্ষার্থীরা উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা, সঙ্গে আরও অনুদান
নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের এইচএসসি পর্যায়ের দুই বছর বৃত্তি দেওয়া হবে।
বৃত্তির আওতায় একজন শিক্ষার্থী—
প্রতি মাসে পাবেন ২ হাজার ৫০০ টাকা;
পাঠ্য উপকরণের জন্য বছরে পাবেন ২ হাজার ৫০০ টাকা;
পোশাক-পরিচ্ছদের জন্য বছরে পাবেন ১ হাজার টাকা।
অর্থাৎ মাসিক বৃত্তির পাশাপাশি শিক্ষা উপকরণ ও পোশাকের জন্যও আলাদা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
অন্য বৃত্তি থাকলে আবেদন করা যাবে না
বৃত্তির ক্ষেত্রে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক কিছু নির্দিষ্ট শর্তও দিয়েছে। সরকারি বৃত্তি ছাড়া অন্য কোনো উৎস থেকে বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তির জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।
ফলে আবেদন করার আগে শিক্ষার্থীদের নিজেদের বর্তমান বৃত্তি বা আর্থিক সহায়তার বিষয়টি যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।
যেভাবে আবেদন করতে হবে
যোগ্য শিক্ষার্থীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদনের জন্য ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের নির্ধারিত আবেদন প্ল্যাটফর্মে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করতে হবে।
আবেদনের সঙ্গে যেসব কাগজপত্রের স্ক্যান কপি দিতে হবে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—
আবেদনকারীর পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবির স্ক্যান কপি;
পিতা ও মাতার পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবির স্ক্যান কপি;
এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার নম্বরপত্রের স্ক্যান কপি;
এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার প্রশংসাপত্রের স্ক্যান কপি।
ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের বৃত্তির অনলাইন আবেদন পোর্টাল
সরাসরি, ডাকযোগে কিংবা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনেই আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ সময়সূচি এক নজরে
| কার্যক্রম | তারিখ |
|---|---|
| আবেদনের শেষ সময় | ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
| প্রাথমিকভাবে নির্বাচিতদের তালিকা | ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
| কাগজপত্র যাচাই | ২৩ সেপ্টেম্বর–১৩ অক্টোবর ২০২৬ |
| চূড়ান্ত ফলাফল | পরে ওয়েবসাইটে প্রকাশ |
প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ব্যাংকের ওয়েবসাইট থেকে ‘Primary Selection Letter’ এবং প্রদত্ত নির্দেশিকার প্রিন্ট কপিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের যেকোনো শাখা বা মোবাইল ব্যাংকিং অফিসে উপস্থিত হতে হবে। সেখানে জমা দেওয়া তথ্য ও কাগজপত্রের সত্যতা যাচাই করা হবে।
উচ্চশিক্ষার পথে আর্থিক সহায়তা
এসএসসি পাসের পর অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে কাঙ্ক্ষিত শিক্ষাজীবন চালিয়ে যেতে সমস্যায় পড়েন। বিশেষ করে গ্রামীণ ও অনগ্রসর অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা ব্যয়ের চাপ আরও বেশি হতে পারে।
এই বাস্তবতায় ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের বৃত্তি কর্মসূচি শুধু মাসিক আর্থিক সহায়তা নয়, বরং বই-খাতা ও পোশাকের ব্যয়েও সহায়তা দেবে। গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের জন্য ৯০ শতাংশ বৃত্তি নির্ধারণ এবং ছাত্রীদের জন্য অর্ধেক বৃত্তি সংরক্ষণের সিদ্ধান্তও সুযোগের বিস্তৃতি বাড়াবে।
তবে আবেদনকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যোগ্যতার শর্ত ভালোভাবে যাচাই করে নির্ধারিত সময়ের আগেই আবেদন সম্পন্ন করা। কারণ ৪ সেপ্টেম্বরের পর সরাসরি, ডাক বা কুরিয়ারের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ভালো ফল করা আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য তাই এটি উচ্চমাধ্যমিকের দুই বছরের পড়াশোনায় গুরুত্বপূর্ণ সহায়তার সুযোগ হতে পারে।


0 মন্তব্যসমূহ