একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর, ক্লাস ১২ নভেম্বর: পরীক্ষা ছাড়াই মেধা ও পছন্দক্রমে ভর্তি
নিজস্ব প্রতিবেদক,পকেট নিউজ | ১২ আগস্ট ২০২৬
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রক্রিয়া আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে পারে। খসড়া সময়সূচি অনুযায়ী, অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়ে পুরো ভর্তি কার্যক্রম ১০ নভেম্বরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এরপর ১২ নভেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হতে পারে।
তবে এই সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের প্রস্তুত করা খসড়া সময়সূচি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর অনুমোদন মিললে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে।
এবারও একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে কোনো ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল, শিক্ষার্থীর পছন্দক্রম এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা বিবেচনায় কেন্দ্রীয় অনলাইন ব্যবস্থায় শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।
আবেদন শুরু হতে পারে ১৫ সেপ্টেম্বর
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামানের তথ্য অনুযায়ী, খসড়া সময়সূচিতে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন গ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। সময়সূচিটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রীয় অনলাইন পদ্ধতিতে আবেদন করতে হবে। একজন শিক্ষার্থী নির্ধারিত ফি দিয়ে সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দক্রমে রাখতে পারবেন।
আবেদনের পর শিক্ষার্থীর এসএসসি বা সমমানের ফলাফল, পছন্দক্রম এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা বিবেচনা করে একটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হবে।
অর্থাৎ ভালো ফল করলেই যেকোনো পছন্দের কলেজে ভর্তি নিশ্চিত হবে—এমন নয়। কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানে আসনসংখ্যা, প্রতিযোগিতা এবং শিক্ষার্থীর মেধাক্রমের ওপর ভর্তির সুযোগ অনেকটাই নির্ভর করবে।
এবারও থাকছে না ভর্তি পরীক্ষা
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে কয়েক বছর ধরেই এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হচ্ছে। এবারও সেই পদ্ধতিই বহাল থাকছে।
ফলে শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে কলেজভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে না। অনলাইনে আবেদন করার সময় সঠিকভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রম দেওয়া তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
তবে ঢাকার নটর ডেম কলেজসহ কয়েকটি বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তি প্রক্রিয়া প্রচলিত কেন্দ্রীয় পদ্ধতির বাইরে থাকতে পারে। একইভাবে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির প্রক্রিয়াও আলাদা।
পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার, আসন প্রায় ২৫ লাখ
এবার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় তুলনামূলক কম পাসের হার।
গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন।
অর্থাৎ প্রায় ৭ লাখ পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি।
অন্যদিকে সারা দেশে কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। ফলে এবার মোট আসনের তুলনায় ভর্তিযোগ্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক কম।
হিসাব অনুযায়ী, মোট আসনের বড় একটি অংশ এবার খালি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। গত বছরও মোট আসনের ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ খালি ছিল। এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার আরও কম হওয়ায় খালি আসনের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
আসন বেশি, তবু ভালো কলেজে প্রতিযোগিতা তীব্র
দেশজুড়ে একাদশ শ্রেণিতে আসনের সংখ্যা শিক্ষার্থীর তুলনায় অনেক বেশি হলেও ভালো ও জনপ্রিয় কলেজগুলোতে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। শুধু ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডেই জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন।
ফলে সামগ্রিকভাবে বিপুল সংখ্যক আসন খালি থাকলেও নামী ও উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন কলেজগুলোতে আসনসংকট এবং প্রতিযোগিতা তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে রাজধানীসহ বড় শহরের সরকারি ও খ্যাতনামা কলেজগুলোতে জিপিএ, গ্রুপ, আসনসংখ্যা এবং শিক্ষার্থীদের পছন্দক্রমের কারণে ভর্তি প্রতিযোগিতা তুলনামূলক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কীভাবে হবে একাদশ শ্রেণির ভর্তি?
কেন্দ্রীয় অনলাইন ভর্তি ব্যবস্থায় সাধারণত একজন শিক্ষার্থীকে পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা দিতে হয়। সেখানে কমপক্ষে পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি প্রতিষ্ঠান পছন্দ করা যায়।
এরপর শিক্ষার্থীর—
এসএসসি ও সমমানের ফলাফল,
পছন্দক্রম,
সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আসনসংখ্যা এবং
প্রযোজ্য কোটা
বিবেচনা করে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়।
তাই আবেদন করার সময় শুধু একটি পছন্দের কলেজের ওপর নির্ভর না করে ফলাফল ও সম্ভাব্য প্রতিযোগিতা বিবেচনা করে ধারাবাহিকভাবে পছন্দক্রম সাজানো গুরুত্বপূর্ণ।
কেন্দ্রীয় ব্যবস্থায় কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে বুয়েট
একাদশ শ্রেণির কেন্দ্রীয় অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। এ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) কারিগরি সহায়তা দিয়ে আসছে।
কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইন আবেদন ও মেধাভিত্তিক মনোনয়নের ফলে শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে প্রতিটি কলেজে গিয়ে আবেদন করার প্রয়োজন হয় না। এতে ভর্তি প্রক্রিয়ায় সময় ও ভোগান্তি কমানোর পাশাপাশি একই শিক্ষার্থী একাধিক প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ আটকে রাখার সম্ভাবনাও কমে।
১২ নভেম্বর ক্লাস শুরুর পরিকল্পনা
খসড়া সময়সূচি অনুযায়ী, ১০ নভেম্বরের মধ্যে একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর নতুন শিক্ষাবর্ষের আনুষ্ঠানিক ক্লাস শুরু হতে পারে ১২ নভেম্বর।
তবে পুরো সময়সূচিই এখনো প্রস্তাবিত পর্যায়ে রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর চূড়ান্ত তারিখ ও বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশ করা হবে।
ফলে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা, পছন্দের কলেজের আসন ও ভর্তির যোগ্যতা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া এবং কেন্দ্রীয় ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন করার প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।
সামগ্রিকভাবে এবারের একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়ায় একদিকে বিপুলসংখ্যক আসন খালি থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে ভালো কলেজগুলোতে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যেও তীব্র প্রতিযোগিতা দেখা দিতে পারে। তাই ভর্তি পরীক্ষাবিহীন এই ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীর ফলাফল ও সঠিক পছন্দক্রমই ভর্তির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


0 মন্তব্যসমূহ