📢 প্রতিদিনের খেলার সূচি ও লেটেস্ট খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 চাকরির নিয়োগ, পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার কমে ৬২.২৫%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। ------ || ------ 📢 খেলা||- ফুটবল-- আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ------ || ------ 📢 হরমুজ প্রণালি কবে খুলবে, অনিশ্চয়তায় ফের বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম।

মক্কা চুক্তিতে নতুন দেশ যুক্ত করার ইঙ্গিত, তুরস্ক–সৌদি–পাকিস্তানের জোটে মিসরকে চান এরদোয়ান

 

মক্কা চুক্তিতে নতুন দেশ যুক্ত করার ইঙ্গিত, তুরস্ক–সৌদি–পাকিস্তানের জোটে মিসরকে চান এরদোয়ান

মক্কা চুক্তিতে নতুন দেশ যুক্ত করার ইঙ্গিত, তুরস্ক–সৌদি–পাকিস্তানের জোটে মিসরকে চান এরদোয়ান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | পকেট নিউজ

প্রকাশ: ১৬ আগষ্ট ২০২৬

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি আরও বিস্তৃত হতে পারে। এ চুক্তিতে ভবিষ্যতে মিসরসহ আরও কয়েকটি দেশকে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তাঁর এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা কাঠামোয় নতুন ধরনের সমীকরণের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

আল–জাজিরা আরবির অনুষ্ঠান ‘আল মুকাবালা’তে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এরদোয়ান বলেন, তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে যে প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়েছে, সেটি প্রয়োজনে আরও দেশের জন্য উন্মুক্ত রাখা যেতে পারে। মিসর ভবিষ্যতে এতে যোগ দিতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

তিন দেশের চুক্তিতে কী আছে

গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেন। চুক্তিটি এরই মধ্যে ‘মক্কা চুক্তি’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।

চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পারস্পরিক প্রতিরক্ষা অঙ্গীকার। অর্থাৎ তিন দেশের যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং অন্য দেশগুলোও প্রতিক্রিয়া দেখাবে।

এরদোয়ানের ভাষায়, এই চুক্তি বিশ্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

এই ব্যবস্থাকে অনেক বিশ্লেষক ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে তুলনা করছেন। ন্যাটোর ওই বিধানে একটি সদস্যদেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে পুরো জোটের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তবে পাকিস্তানের কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে সতর্ক করে বলেছেন, মক্কা চুক্তিকে ন্যাটোর সমতুল্য সামরিক জোট হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। একই সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে এই চুক্তি করা হয়েছে—এমন ধারণাও তাঁরা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

মিসর যুক্ত হলে বদলাতে পারে আঞ্চলিক সমীকরণ

মিসর যদি ভবিষ্যতে এই প্রতিরক্ষা কাঠামোর অংশ হয়, তাহলে এর ভৌগোলিক ও কৌশলগত গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে। তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে মিসরের সম্পৃক্ততা মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে একটি বিস্তৃত নিরাপত্তা সহযোগিতার কাঠামো তৈরি করতে পারে।

বিশেষ করে মিসরের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির অবস্থান ভূমধ্যসাগর, লোহিত সাগর ও সুয়েজ খালের সঙ্গে যুক্ত। অন্যদিকে সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তি, তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য এবং পাকিস্তান পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র।

ফলে চুক্তিটি সম্প্রসারিত হলে এর প্রভাব শুধু সামরিক সহযোগিতায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; আঞ্চলিক কূটনীতি, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা এবং প্রতিরোধমূলক সামরিক সক্ষমতার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে তুরস্কের উদ্বেগ

সাক্ষাৎকারে এরদোয়ান মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনার বিভিন্ন দিক নিয়েও কথা বলেন। বিশেষ গুরুত্ব দেন হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিকে।

তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়াকে তুরস্ক অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তাঁর মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ থাকা কোনো পক্ষের জন্যই ভালো নয়।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অনেক বেশি। এ পথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহন করা হয়। ফলে দীর্ঘ সময় এটি বন্ধ থাকলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।

এরদোয়ান আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে কাতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সিরিয়া নিয়ে তুরস্কের পরিকল্পনা

সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়েও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন এরদোয়ান। তিনি বলেন, সিরিয়ায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে তুরস্ক তার সক্ষমতার মধ্যে থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

সিরিয়া সফরের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে সিরিয়ার কুর্দি জনগোষ্ঠীর প্রসঙ্গও উঠে আসে। এরদোয়ান বলেন, সিরিয়ার কুর্দিরাও শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার অংশীদার হবেন।

একই সঙ্গে পুরো অঞ্চলের কুর্দি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং তাঁদের অধিকার রক্ষায় তুরস্ক কাজ করবে বলে জানান তিনি।

গাজায় হামাসের ভূমিকার প্রশংসা

গাজা পরিস্থিতি নিয়েও কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট।

এরদোয়ানের ভাষ্য, গাজাকে তুরস্ক একা ছেড়ে যেতে পারে না। গাজার মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে আঙ্কারা কাজ করে যাবে।

হামাসের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংগঠনটি আন্তরিকভাবে নিজেদের প্রতিশ্রুতি পালন করছে। কিন্তু এরপরও ইসরায়েল যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গাজা নিয়ে তুরস্কের অবস্থান এর আগেও দেশটির আঞ্চলিক কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পাশাপাশি মানবিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতেও আঙ্কারা সক্রিয় ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে।

লেবানন ও সুদানেও নজর তুরস্কের

লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা তুরস্কের জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয় বলেও উল্লেখ করেন এরদোয়ান।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তুরস্ক সফর করার সময় লেবাননের সংঘাত বন্ধের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলে জানান এরদোয়ান। একই সঙ্গে সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।

সুদান নিয়েও তুরস্কের অবস্থান তুলে ধরেন এরদোয়ান। দেশটির সার্বভৌম কাউন্সিলের প্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভালো বলে উল্লেখ করেন তিনি। সুদানকে তুরস্ক সমর্থন দিয়ে যাবে বলেও জানান।

লিবিয়ার সঙ্গেও তুরস্কের সম্পর্ক স্থিতিশীল রয়েছে বলে মন্তব্য করেন এরদোয়ান। দেশটিকে আঙ্কারা পরিত্যাগ করবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে সদস্যপদ এখন অগ্রাধিকার নয়

সাক্ষাৎকারে ইউরোপীয় ইউনিয়নে তুরস্কের সদস্যপদ নিয়েও কথা বলেন এরদোয়ান।

তাঁর মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তুরস্ককে সদস্য করতে আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে না। এ কারণে ইইউর সদস্যপদ এখন আর আঙ্কারার অগ্রাধিকার নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে এরদোয়ানের দাবি, তুরস্ককে সদস্য না করার সিদ্ধান্তের কারণে শেষ পর্যন্ত ইউরোপই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদের জন্য চেষ্টা করে এলেও প্রক্রিয়াটি নানা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক জটিলতায় আটকে রয়েছে।

এফ-৩৫ নিয়ে ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতির অপেক্ষায় এরদোয়ান

যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান পাওয়ার বিষয়টিও সাক্ষাৎকারে উঠে আসে।

এরদোয়ান জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান দেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এখন সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে তুরস্ক।

তবে এ বিষয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা রয়েছে। রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কেনার পর ২০১৯ সালে তুরস্ককে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের যুক্তি ছিল, রুশ নির্মিত এস-৪০০ ব্যবস্থার উপস্থিতি এফ-৩৫-এর গোপন প্রযুক্তি নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সম্প্রতি তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলনের সময় ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, এস-৪০০ ইস্যুতে তুরস্কের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি তাঁর প্রশাসন বিবেচনা করবে। একই সঙ্গে তুরস্ককে আবার এফ-৩৫ কর্মসূচিতে ফিরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

নতুন নিরাপত্তা কাঠামোর পথে মধ্যপ্রাচ্য?

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মক্কা চুক্তিতে মিসরকে যুক্ত করার সম্ভাবনার কথা এরদোয়ানের বক্তব্যে নতুন মাত্রা পেয়েছে। যদিও মিসর আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তিতে যোগ দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত জানিয়েছে—এমন তথ্য এখনো সামনে আসেনি।

তবু এরদোয়ানের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, তিন দেশের সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক কাঠামোয় রূপ দেওয়ার চিন্তা রয়েছে আঙ্কারার।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, গাজা ও লেবাননের যুদ্ধ, সিরিয়ার ভবিষ্যৎ এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে এমন একটি জোটের সম্ভাব্য সম্প্রসারণ নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ।

তবে মক্কা চুক্তি শেষ পর্যন্ত কতটা কার্যকর সামরিক সহযোগিতায় রূপ নেয় এবং এতে মিসরসহ অন্য কোনো দেশ বাস্তবে যুক্ত হয় কি না—সেটিই এখন দেখার বিষয়।

আরো পড়ুন
পোস্ট লোড হচ্ছে...

নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ