📢 প্রতিদিনের খেলার সূচি ও লেটেস্ট খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 চাকরির নিয়োগ, পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার কমে ৬২.২৫%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। ------ || ------ 📢 খেলা||- ফুটবল-- আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ------ || ------ 📢 হরমুজ প্রণালি কবে খুলবে, অনিশ্চয়তায় ফের বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম।

মিল্কভিটার দুধের দাম লিটারে ১০ টাকা বাড়ল, প্রভাব পড়তে পারে বাজারেও

 

মিল্কভিটার দুধের দাম লিটারে ১০ টাকা বাড়ল, প্রভাব পড়তে পারে বাজারেও

মিল্কভিটার দুধের দাম লিটারে ১০ টাকা বাড়ল, প্রভাব পড়তে পারে বাজারেও

নিজস্ব প্রতিবেদক ,পকেট নিউজ| ১০ আগস্ট ২০২৬

দেশের বাজারে বহুল পরিচিত ব্র্যান্ড মিল্কভিটার পাস্তুরিত তরল দুধের দাম লিটারে ১০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন দামে এখন প্রতি লিটার মিল্কভিটার দুধ খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। গত ৫ আগস্ট থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে।

বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেড—মিল্কভিটার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান—জানিয়েছে, দুধ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে খামারিদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহের মূল্য, গোখাদ্য, প্যাকেজিং, জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের ব্যয় বৃদ্ধিকে দাম বাড়ানোর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

আধা লিটার দুধেও বেড়েছে দাম

নতুন মূল্য অনুযায়ী, মিল্কভিটার ৫০০ মিলিলিটারের স্ট্যান্ডার্ড দুধের দাম ৫৫ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা হয়েছে। একই পরিমাণ টোন্ড মিল্কের দাম ৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫৫ টাকা।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ইতোমধ্যে নতুন দামের প্যাকেট সরবরাহ করা হয়েছে। শেখেরটেক, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও টাউনহল বাজারে নতুন মূল্য লেখা প্যাকেটের মিল্কভিটার দুধ বিক্রি হতে দেখা গেছে।

তবে একই সময়ে বেসরকারি কয়েকটি ব্র্যান্ডের তরল দুধের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বাজারে আধা লিটার আড়ং ও ফার্মফ্রেশ দুধ ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

শেখেরটেক এলাকার দীপালয় স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. মনির হোসেন বলেন, ৬ আগস্ট থেকে সরবরাহকারীরা তাঁদের দোকানে বাড়তি দামের মিল্কভিটা দুধ দেওয়া শুরু করেছেন। তাঁর আশঙ্কা, মিল্কভিটার দাম বাড়ার পর অন্য ব্র্যান্ডগুলোর দামও বাড়তে পারে।

কেন বাড়ল দুধের দাম?

মিল্কভিটার কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, গত কিছুদিনে দুধ উৎপাদনের প্রায় প্রতিটি ধাপেই ব্যয় বেড়েছে। প্যাকেজিং সামগ্রী, গোখাদ্য ও পরিবহন ব্যয়ের পাশাপাশি বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে উৎপাদন ব্যয়ে।

প্রতিষ্ঠানটির হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি লিটার দুধ উৎপাদনে আগের তুলনায় প্রায় ১১ থেকে সাড়ে ১১ টাকা বেশি খরচ হচ্ছে।

মিল্কভিটার চেয়ারম্যান এস এম আমীর হামজা শাতিল জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানকে লোকসান থেকে রক্ষা করা এবং অন্তত উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে বিক্রয়মূল্যের সামঞ্জস্য রাখার জন্যই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

তিনি জানান, মিল্কভিটার কারখানাগুলোতে বিদ্যুৎ বিল আগে যেখানে মাসে প্রায় ৫৫–৫৬ লাখ টাকা ছিল, তা বেড়ে ৭২–৭৪ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। পাশাপাশি গ্যাসের সংকটের কারণে কোনো কোনো কারখানায় এলপিজি ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়েছে।

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে খামার পর্যায় থেকে শুরু করে কারখানা ও বাজারজাতকরণ—সব ক্ষেত্রেই।

খামারিদের দুধের দামও বাড়ানো হয়েছে

শুধু উৎপাদন খরচ নয়, খামারিদের ধরে রাখাও মিল্কভিটার মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের ভাষ্য, গোখাদ্য ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বেসরকারি দুগ্ধ কোম্পানিগুলো অনেক ক্ষেত্রে খামারিদের কাছ থেকে তুলনামূলক বেশি দামে দুধ সংগ্রহ করছে। ফলে মিল্কভিটার জন্য দুধ সংগ্রহ কমে যাচ্ছিল।

এই পরিস্থিতিতে গত ১ আগস্ট থেকে খামারিদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহের মূল্য লিটারপ্রতি তিন টাকা বাড়ানো হয়েছে।

অর্থাৎ ভোক্তা পর্যায়ে দাম বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদক বা খামারিদেরও কিছুটা বেশি মূল্য দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর ফলে খামারিদের উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং মিল্কভিটার দুধ সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

দাম বাড়তেই বিক্রি কমেছিল, আবার ফিরছে

মূল্যবৃদ্ধির প্রাথমিক প্রভাব মিল্কভিটার বিক্রিতেও দেখা গেছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, দাম বাড়ানোর আগে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ৭৭ হাজার লিটার দুধ বিক্রি হতো।

দাম বাড়ানোর পর প্রথম দিন বিক্রি নেমে আসে প্রায় ৪৪ হাজার লিটারে। তবে এরপর পরিস্থিতি দ্রুত কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। ১০ আগস্ট পর্যন্ত দৈনিক বিক্রি প্রায় ৭৫ হাজার ৫০০ লিটারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে মিল্কভিটা কর্তৃপক্ষ।

প্রতিষ্ঠানটির আশা, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিক্রি আগের পর্যায়ে ফিরে আসবে।

এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ—দাম বাড়লেও ভোক্তাদের বড় অংশ এখনো মিল্কভিটার পণ্য কেনা অব্যাহত রেখেছেন। এর পেছনে ব্র্যান্ডটির দীর্ঘদিনের বাজার উপস্থিতি, দুধের মান এবং ভোক্তাদের আস্থার ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুধু দুধ নয়, বাড়ছে অন্যান্য পণ্যের দামও

মিল্কভিটা শুধু পাস্তুরিত তরল দুধ বিক্রি করে না। প্রতিষ্ঠানটি টোন্ড মিল্ক, ফ্লেভার্ড মিল্ক, ঘি, মাখন, ননিযুক্ত ও ননিবিহীন গুঁড়া দুধ, মিষ্টি দই, টক দই, রসগোল্লা, সন্দেশ, চিজ, কেকসহ প্রায় ২৫ ধরনের দুগ্ধ ও খাদ্যপণ্য বাজারজাত করে।

প্রতিষ্ঠানটির সূত্র জানিয়েছে, দুধের পাশাপাশি এসব পণ্যের প্রায় সবগুলোর দামই বাড়ানো হয়েছে। ফলে মিল্কভিটার মূল্য সমন্বয়ের প্রভাব শুধু তরল দুধের বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্যের বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

ভোক্তাদের উদ্বেগ—অন্য কোম্পানিগুলোও কি দাম বাড়াবে?

দুধের দাম বাড়ায় সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ, বাজারে একটি বড় ব্র্যান্ড মূল্য বাড়ালে অন্যান্য কোম্পানিও পরবর্তী সময়ে মূল্য সমন্বয়ের পথে যেতে পারে।

মোহাম্মদপুর টাউন হল এলাকার বাসিন্দা ওবায়দুল ইসলাম বলেন, দুধ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিকর খাদ্য। তাই উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর এমন উদ্যোগ নেওয়া উচিত, যাতে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ কম পড়ে।

তাঁর আশঙ্কা, মিল্কভিটার দাম বাড়ার পর অন্যান্য ব্র্যান্ডও দাম বাড়ানোর সুযোগ নিতে পারে। এতে সামগ্রিকভাবে বাজারে পাস্তুরিত তরল দুধের দাম আরও বাড়তে পারে।

দুধের বাজারে বড় প্রশ্ন খামারি থেকে ভোক্তা পর্যন্ত

মিল্কভিটার দাম বৃদ্ধির ঘটনাটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যাবে না। এর সঙ্গে দেশের দুগ্ধ খাতের উৎপাদন ব্যয়, খামারিদের আয়, জ্বালানি ব্যয় এবং ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতার বিষয়গুলোও জড়িত।

একদিকে খামারিরা যদি উৎপাদন খরচের তুলনায় পর্যাপ্ত মূল্য না পান, তাহলে দুধ উৎপাদনে আগ্রহ কমে যেতে পারে। অন্যদিকে খামার পর্যায়ে দাম বাড়ানোর পুরো চাপ যদি ভোক্তার ওপর পড়ে, তাহলে বাজারে দুধের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

মিল্কভিটার বর্তমান মূল্যবৃদ্ধি তাই দুগ্ধ খাতের বৃহত্তর অর্থনৈতিক বাস্তবতারও একটি প্রতিফলন।

উৎপাদন খরচ বনাম ভোক্তার সক্ষমতা

মিল্কভিটা কর্তৃপক্ষ বলছে, গত এক যুগে চাল, ডালসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের তুলনায় দুগ্ধ খাতে মূল্যবৃদ্ধি তুলনামূলক কম হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, খামারিদের টিকিয়ে রাখা, উৎপাদন চালু রাখা এবং মানসম্মত দুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এবার দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

তবে ভোক্তার দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি ভিন্ন। দুধ শিশু, বয়স্ক ও বিভিন্ন বয়সী মানুষের খাদ্যতালিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে দুধের দাম বাড়লে পরিবারের মাসিক খাদ্য ব্যয়ে সরাসরি প্রভাব পড়ে।

বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য লিটারে ১০ টাকা মূল্যবৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত ব্যয় তৈরি করতে পারে।

সামনে কী হতে পারে?

মিল্কভিটার দাম বাড়ানোর পর এখন নজর থাকবে অন্য বেসরকারি দুগ্ধ কোম্পানিগুলোর ওপর। তারা একইভাবে উৎপাদন ব্যয়, খামারিদের দুধ সংগ্রহের মূল্য ও বাজার পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে দাম সমন্বয় করে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

যদি একাধিক প্রতিষ্ঠান দাম বাড়ায়, তাহলে বাজারে পাস্তুরিত তরল দুধের গড় মূল্য আরও বাড়তে পারে। আর যদি অন্য কোম্পানিগুলো বর্তমান দাম ধরে রাখে, তাহলে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে মিল্কভিটার বিক্রির ওপর কিছুটা চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।

তবে প্রথম কয়েক দিনের বিক্রির তথ্য বলছে, মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সাময়িকভাবে পড়লেও মিল্কভিটার বিক্রি দ্রুত আগের পর্যায়ের কাছাকাছি ফিরেছে।

সব মিলিয়ে, মিল্কভিটার দুধের লিটারে ১০ টাকা মূল্যবৃদ্ধি দেশের দুগ্ধবাজারে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। উৎপাদন খরচ ও খামারিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার প্রয়োজন যেমন রয়েছে, তেমনি সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে দুধের দাম রাখাও জরুরি। এখন মূল চ্যালেঞ্জ হবে—উৎপাদক, প্রক্রিয়াজাতকারী ও ভোক্তার স্বার্থের মধ্যে কীভাবে একটি টেকসই ভারসাম্য তৈরি করা যায়।

আরো পড়ুন
পোস্ট লোড হচ্ছে...

নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ