📢 প্রতিদিনের খেলার সূচি ও লেটেস্ট খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 চাকরির নিয়োগ, পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার কমে ৬২.২৫%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। ------ || ------ 📢 খেলা||- ফুটবল-- আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ------ || ------ 📢 হরমুজ প্রণালি কবে খুলবে, অনিশ্চয়তায় ফের বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম।

তীব্র গ্যাস–সংকটে দেশ, কমেছে এলএনজি সরবরাহ; সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সারি

 

তীব্র গ্যাস–সংকটে দেশ, কমেছে এলএনজি সরবরাহ; সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সারি

তীব্র গ্যাস–সংকটে দেশ, কমেছে এলএনজি সরবরাহ; সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সারি

নিজস্ব প্রতিবেদক, পকেট নিউজ | ১১ আগস্ট ২০২৬

দেশজুড়ে গ্যাসের সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। চলমান সংকটের মধ্যেই আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ আবার কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণে এলএনজি বহনকারী জাহাজ থেকে টার্মিনালে গ্যাস খালাস করা সম্ভব না হওয়ায় দৈনিক সরবরাহ ২৫ কোটি ঘনফুটের বেশি কমেছে। ফলে আজ মঙ্গলবার দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের সংকট আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গ্যাসের ঘাটতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে যানবাহন, বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস নিতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়িচালকদের। অনেক স্টেশনে সরবরাহ সীমিত থাকায় তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজটও।

পেট্রোবাংলার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণে আমদানি করা এলএনজি বহনকারী একটি জাহাজ থেকে টার্মিনালে গ্যাস খালাস করা যাচ্ছে না। এতে দৈনিক ২৫ কোটি ঘনফুটের বেশি গ্যাস সরবরাহ কমেছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলে বুধবার থেকে সরবরাহ বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৈরী আবহাওয়ায় আটকে এলএনজি সরবরাহ

দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় আমদানি করা এলএনজির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কক্সবাজারের মহেশখালীতে থাকা দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে এই গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়।

এর মধ্যে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের দৈনিক সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট এবং সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট।

কিন্তু গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার পর এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। রান্নার গ্যাসের চাপ কমার পাশাপাশি শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনেও চাপ তৈরি হয়। একই সঙ্গে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও সরবরাহ কমে দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়।

এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিক চালু হলেও সংকট কাটেনি

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার রয়েছে। প্রতিটির সক্ষমতা প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট। অগ্নিদুর্ঘটনায় একটি বয়লার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অন্যটি অক্ষত রয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার অক্ষত বয়লার ব্যবহার করে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। এতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ কিছুটা বাড়ে এবং সংকট সাময়িকভাবে কিছুটা কমে আসে। বর্তমানে এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে দিনে গড়ে প্রায় ২৮ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

তবে ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি পুনরায় চালুর জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। সেই পরীক্ষা করতে বর্তমানে চালু থাকা বয়লারটিও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হবে। ফলে এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ অন্তত ১২ ঘণ্টার জন্য পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

পেট্রোবাংলা ছুটির দিনে, যখন গ্যাসের চাহিদা তুলনামূলক কম থাকে, তখন এই পরীক্ষা চালানোর পরিকল্পনা করছে। ক্ষতিগ্রস্ত বয়লার চালু হলে পরবর্তী সময়ে সরবরাহ ধীরে ধীরে বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এ সপ্তাহে এক্সিলারেট থেকে সরবরাহ বাড়ছে না

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পরীক্ষা ও পুনরায় গ্যাস সরবরাহ চালুর বিষয়ে এক্সিলারেট এনার্জিকে একটি কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়েছে। পরিকল্পনাটি পাওয়ার পর জ্বালানি বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অর্থাৎ চলতি সপ্তাহে এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে সংকট মোকাবিলায় আপাতত বিদ্যমান সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে।

সামিটের টার্মিনালেও কমেছে সরবরাহ

এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হওয়ার পর সামিটের টার্মিনালকে স্বাভাবিক সক্ষমতার চেয়ে বেশি গ্যাস সরবরাহ করতে হয়েছিল। একপর্যায়ে টার্মিনালটি দিনে প্রায় ৫৭ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ করে।

পরে সরবরাহ প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুটে নামিয়ে আনা হয়। এর ফলে দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ দৈনিক প্রায় ২১৫ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছিল।

এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিকভাবে চালু হওয়ার পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয় এবং মোট সরবরাহ ২৪৫ কোটি ঘনফুটের বেশি হয়েছিল। কিন্তু এই স্বস্তি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।

সোমবার এলএনজি বহনকারী একটি নতুন জাহাজ দেশে পৌঁছালেও সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেখান থেকে টার্মিনালে এলএনজি খালাস করা সম্ভব হয়নি। ফলে সামিটের টার্মিনাল থেকেও সরবরাহ প্রায় ২৫ কোটি ঘনফুট কমে গেছে।

এর প্রভাবে দেশের মোট গ্যাস সরবরাহ আবার দৈনিক ২২০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে গেছে। মঙ্গলবার সরবরাহ আরও কিছুটা কমতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট, সরবরাহ ২২০ কোটির নিচে

দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে সর্বোচ্চ প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়।

এর মধ্যে আমদানি করা এলএনজি থেকে স্বাভাবিক সময়ে প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থায় একাধিক সংকট তৈরি হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

চাহিদার তুলনায় সরবরাহের এই বড় ঘাটতি থাকায় বিতরণ সংস্থাগুলোকে বিভিন্ন খাতে গ্যাস সরবরাহে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হচ্ছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে আবাসিক গ্রাহক, সিএনজি স্টেশন ও শিল্পকারখানায়।

সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সারি

গ্যাস সংকটের অন্যতম দৃশ্যমান প্রভাব দেখা যাচ্ছে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে। গ্যাসের চাপ ও সরবরাহ কম থাকায় অনেক স্টেশনে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। কোথাও কোথাও গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে মূল সড়কেও যানজট তৈরি হচ্ছে।

গ্যাসের সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে আগামী কয়েক দিনে এই পরিস্থিতি আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতেও বাড়ছে চাপ

গ্যাসের ঘাটতির প্রভাব শুধু যানবাহন খাতেই সীমাবদ্ধ নয়। গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানাগুলোতেও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যেসব শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ প্রয়োজন, সেখানে চাপ কমে গেলে উৎপাদন সক্ষমতা কমে যেতে পারে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনেও গ্যাসের সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। ফলে গ্যাস সংকটের সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপরও পরোক্ষ চাপ তৈরি হতে পারে।

কবে কমবে সংকট?

বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্যাস সংকট দ্রুত কমবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করছে আবহাওয়া এবং এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর। পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সমুদ্রের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বুধবার থেকে এলএনজি সরবরাহ বাড়তে পারে।

অন্যদিকে এক্সিলারেট এনার্জির ক্ষতিগ্রস্ত বয়লার পুনরায় চালু করা গেলে ভবিষ্যতে জাতীয় গ্রিডে আরও গ্যাস যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে এর আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের কাজ শেষ করতে হবে।

সব মিলিয়ে সাময়িকভাবে সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও দেশের গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে যে বড় ব্যবধান রয়েছে, তা দ্রুত পূরণ করা সম্ভব নয়। ফলে এলএনজি আমদানি, টার্মিনালগুলোর নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম এবং দেশীয় গ্যাস উৎপাদন—সব ক্ষেত্রেই সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

বর্তমান সংকট আবারও দেখিয়ে দিচ্ছে, দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একটি টার্মিনালের দুর্ঘটনা এবং অন্যদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে জাহাজ থেকে এলএনজি খালাসে সাময়িক বাধা—দুই ঘটনা একসঙ্গে সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় চাপ তৈরি করেছে।

তাই শুধু তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলা নয়, ভবিষ্যতের জন্য নির্ভরযোগ্য এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থা, টার্মিনালগুলোর বিকল্প সক্ষমতা, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান এবং জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জোরদার করাও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আরো পড়ুন
পোস্ট লোড হচ্ছে...

নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ