📢 প্রতিদিনের খেলার সূচি ও লেটেস্ট খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 চাকরির নিয়োগ, পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার কমে ৬২.২৫%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। ------ || ------ 📢 খেলা||-ক্রিকেট--অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়, ৯ উইকেটে হারিয়ে নতুন ইতিহাস। ------ || ------ 📢 ‘মুসলিম ন্যাটো’ নাকি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো? মক্কা চুক্তিতে বদলাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ।

তিন মাস পর পর্যটকদের জন্য খুলল সুন্দরবন, যাওয়ার আগে জেনে নিন খরচ ও নিয়ম

 

তিন মাস পর পর্যটকদের জন্য খুলল সুন্দরবন, যাওয়ার আগে জেনে নিন খরচ ও নিয়ম

তিন মাস পর পর্যটকদের জন্য খুলল সুন্দরবন, যাওয়ার আগে জেনে নিন খরচ ও নিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক,পকেট নিউজ | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ 

দীর্ঘ তিন মাস বন্ধ থাকার পর আজ ১ সেপ্টেম্বর থেকে আবারও পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। বর্ষা মৌসুমে বন্যপ্রাণী ও বনজ সম্পদের সুরক্ষা এবং পরিবেশগত নানা বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নির্দিষ্ট সময় সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছিল। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় এখন আবারও দেশি-বিদেশি পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হওয়ার অপেক্ষায় সুন্দরবনের পর্যটনকেন্দ্রগুলো।

প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণীর অপার সৌন্দর্যের কারণে সুন্দরবন বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। তবে সুন্দরবনে ভ্রমণ সাধারণ কোনো পর্যটনকেন্দ্রে যাওয়ার মতো নয়। বন বিভাগের অনুমতি, নির্ধারিত রুট, নৌযান, গাইড এবং পরিবেশ সুরক্ষার নিয়ম মেনে এখানে প্রবেশ করতে হয়। ফলে ভ্রমণের আগে যাতায়াত, থাকার ব্যবস্থা, নৌযানের ভাড়া, প্রবেশ ফি এবং বন বিভাগের বিধিনিষেধ সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি।

যেভাবে যাবেন সুন্দরবনে

খুলনা, বাগেরহাটের মোংলা ও সাতক্ষীরার শ্যামনগর—এই তিন দিক দিয়ে সুন্দরবন ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে। তবে লঞ্চ বা বড় নৌযানে সুন্দরবনের ভেতরে যেতে হলে মূলত খুলনা ও মোংলা থেকে যাত্রা করতে হয়।

ঢাকা থেকে সড়কপথে সরাসরি খুলনা ও মোংলায় যাওয়া যায়। খুলনাগামী নন-এসি বাসের ভাড়া সাধারণত ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং এসি বাসের ভাড়া ৮৫০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। ঢাকা থেকে খুলনার উদ্দেশে কয়েকটি ট্রেনও চলাচল করে। অন্যদিকে ঢাকা থেকে মোংলাগামী নন-এসি বাসের ভাড়া প্রায় ৭০০ টাকা।

খুলনা বা মোংলায় পৌঁছানোর পর পর্যটকেরা নৌযান বা ট্রলার নিয়ে সুন্দরবনের নির্ধারিত পর্যটনকেন্দ্রে যেতে পারেন।

কোথা থেকে নৌযান পাওয়া যাবে

সুন্দরবন ঘুরে দেখানোর জন্য মোংলা, খুলনার চালনা এবং সাতক্ষীরার মুন্সিগঞ্জ এলাকায় বিভিন্ন ধরনের ট্রলার ও পর্যটন নৌযান রয়েছে।

এক দিনের সফরে মোংলা থেকে পশুর নদ হয়ে করমজল ও হাড়বাড়িয়া, খুলনা থেকে রূপসা-শিবসা নদী হয়ে কালাবাগী ও শেখেরটেক এবং সাতক্ষীরার মুন্সিগঞ্জ থেকে কলাকাছিয়া ও দোবেকীতে যাওয়া যায়।

বর্তমানে খুলনা থেকে সুন্দরবন ভ্রমণের জন্য প্রায় ৬৫টি জলযান রয়েছে। এসব নৌযানে একসঙ্গে ৬ জন থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ প্রায় ৭৫ জন পর্যন্ত পর্যটক ভ্রমণ করতে পারেন।

এক দিনে করমজল ও হাড়বাড়িয়া ভ্রমণ

মোংলা থেকে খুব ভোরে রওনা হলে এক দিনেই করমজল ও হাড়বাড়িয়া ঘুরে দেখা সম্ভব। মোংলা ফেরিঘাট থেকে সারা দিনের জন্য নৌযান ভাড়া নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

শুধু করমজল ভ্রমণের জন্য নৌযানের ভাড়া সাধারণত ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। আর করমজল ও হাড়বাড়িয়া—দুটি পর্যটনকেন্দ্র ঘুরতে নৌযানের ভাড়া প্রায় ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

এক দিনের ভ্রমণে দুপুরের খাবার সঙ্গে করে নেওয়াই ভালো। কারণ সুন্দরবনের ভেতরে সাধারণ পর্যটন এলাকার মতো খাবারের দোকান বা রেস্তোরাঁ সহজে পাওয়া যায় না।

তিন দিন দুই রাতের প্যাকেজ সবচেয়ে জনপ্রিয়

সুন্দরবন ভ্রমণের ক্ষেত্রে সাধারণত তিন দিন দুই রাতের ট্যুর বেশি প্রচলিত। বিভিন্ন পর্যটন প্রতিষ্ঠান ও ট্যুর অপারেটরের মাধ্যমে এসব প্যাকেজ নেওয়া যায়।

ট্যুর কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করলে সাধারণত ভ্রমণের আগে মোট খরচের ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত অগ্রিম পরিশোধ করতে হয়। বিশেষ করে ঈদ, পূজা, সরকারি ছুটি কিংবা দীর্ঘ ছুটির সময়ে সুন্দরবনে পর্যটকের চাপ বাড়ে। তাই জনপ্রিয় সময়গুলোতে কয়েক মাস আগে থেকেই বুকিং করে রাখা ভালো।

জনপ্রতি কত টাকা খরচ হতে পারে

সুন্দরবন ভ্রমণের খরচ নৌযানের ধরন, থাকার ব্যবস্থা, প্যাকেজ, ভ্রমণের সময়কাল এবং সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভর করে।

সাধারণত নন-এসি জলযানে জনপ্রতি প্রায় ৮ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা এবং এসি জলযানে জনপ্রতি প্রায় ১৪ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।

প্যাকেজভিত্তিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে এই অর্থের মধ্যে সাধারণত বন বিভাগের অনুমতি বা প্রবেশ ফি, থাকার ব্যবস্থা, গাইড, সকালের নাশতা, দুপুর ও রাতের খাবার এবং দুই বেলার স্ন্যাকস অন্তর্ভুক্ত থাকে। অর্থাৎ নৌযানে ওঠা থেকে শুরু করে সুন্দরবন ঘুরে আবার নির্ধারিত স্থানে ফিরে আসা পর্যন্ত বেশির ভাগ মৌলিক খরচ প্যাকেজের আওতায় থাকে।

তবে কোনো প্যাকেজ নেওয়ার আগে কী কী সুবিধা এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তা নিশ্চিত হয়ে নেওয়া জরুরি।

নিজ উদ্যোগে গেলে অনুমতি ও প্রবেশ ফি

যারা কোনো ট্যুর অপারেটরের প্যাকেজ না নিয়ে নিজেরা সুন্দরবন ভ্রমণ করতে চান, তাঁদের প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্রের জন্য নির্ধারিত প্রবেশ ফি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ফি আলাদাভাবে পরিশোধ করতে হতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সুন্দরবনের সব এলাকায় ইচ্ছেমতো প্রবেশ করা যায় না। বন বিভাগের অনুমতি বা বৈধ পাস নিয়ে নির্ধারিত পথ ও পর্যটনকেন্দ্রে যেতে হয়। কোনো কোনো এলাকায় প্রবেশের জন্য অতিরিক্ত বা বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে।

তাই ব্যক্তিগতভাবে ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট বন বিভাগ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নিয়ম জেনে নেওয়া উচিত।

সুন্দরবনের কাছেই ইকোকটেজ

শুধু নৌযানে গিয়ে ফিরে আসার পাশাপাশি সুন্দরবনের আশপাশে থেকে প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটানোর সুযোগও রয়েছে।

খুলনার দাকোপ উপজেলার সুন্দরবন-সংলগ্ন কৈলাসগঞ্জ ও বাণীশান্তা ইউনিয়নে বেশ কিছু ইকোকটেজ গড়ে উঠেছে। অনেক পর্যটক এসব কটেজে অবস্থান করে সুন্দরবনের পরিবেশ ও আশপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করেন।

খুলনা থেকে সরাসরি মোংলা হয়ে অথবা চালনা হয়ে এসব ইকোকটেজে যাওয়া যায়।

সুন্দরবনে যেসব কাজ করা যাবে না

সুন্দরবন শুধু পর্যটনকেন্দ্র নয়; এটি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্যের আধার। রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ অসংখ্য প্রাণী, পাখি ও উদ্ভিদের আবাসস্থল এই বন। তাই পর্যটকদের আচরণে পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীর ওপর যেন কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হয়।

বন বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী সুন্দরবনে ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আগ্নেয়াস্ত্র নিয়েও বনে প্রবেশ করা যাবে না।

এ ছাড়া পরিবেশের ক্ষতি করে এমন সামগ্রী বা কর্মকাণ্ড থেকেও বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে ওয়ানটাইম প্লাস্টিকের গ্লাস, প্লেটসহ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর সামগ্রী বনে না নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

বনের পশুপাখিকে বিরক্ত করা, উচ্চ শব্দ করা, তাদের খাবার দেওয়া, নির্ধারিত পথের বাইরে যাওয়া কিংবা বন্যপ্রাণীর খুব কাছে যাওয়ার মতো কোনো কাজ করা উচিত নয়।

পর্যটকদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান

সুন্দরবন খুলে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পর্যটকদের জন্য নতুন করে সুযোগ তৈরি হলেও এই সুযোগের সঙ্গে দায়িত্বও রয়েছে। সুন্দরবনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে যদি পর্যটকেরা প্লাস্টিক বা অন্যান্য বর্জ্য ফেলে যান, উচ্চ শব্দ করেন কিংবা বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেন, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব পড়তে পারে পুরো প্রতিবেশব্যবস্থায়।

তাই পর্যটকদের উচিত নিজেদের সঙ্গে নেওয়া প্লাস্টিক, বোতল, খাবারের প্যাকেটসহ সব ধরনের বর্জ্য যথাস্থানে রাখা এবং সম্ভব হলে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক এড়িয়ে চলা।

একই সঙ্গে নৌযানে চলাচলের সময় নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলা, লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার এবং গাইডের নির্দেশনা অনুসরণ করাও জরুরি।

পর্যটন মৌসুমে নতুন প্রত্যাশা

তিন মাস বন্ধ থাকার পর সুন্দরবন আবার পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়ায় খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার পর্যটননির্ভর ব্যবসায় নতুন গতি আসার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। নৌযান মালিক, ট্যুর অপারেটর, গাইড, ইকোকটেজ এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ সময়।

তবে পর্যটন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেতে হবে। কারণ সুন্দরবনের আকর্ষণই এর প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য। সেই বৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হলে পর্যটনের মূল সম্পদই নষ্ট হবে।

তাই সুন্দরবনে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা একটাই—প্রকৃতিকে উপভোগ করতে হবে, কিন্তু প্রকৃতির ক্ষতি করে নয়।

তিন মাসের বিরতির পর সুন্দরবনের দরজা আবার খুলেছে। এখন পর্যটকদের দায়িত্বশীল আচরণ, বন বিভাগের নিয়ম মেনে চলা এবং পরিবেশের প্রতি শ্রদ্ধাই পারে এই অনন্য প্রাকৃতিক সম্পদকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ রাখতে।

আরো পড়ুন
পোস্ট লোড হচ্ছে...

নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ