Header Ads Widget

Responsive Advertisement

ফলাফল ঘোষণার আগেই উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গ: ইভিএম ও স্ট্রং রুম পাহারায় তৃণমূল

 


ফলাফল ঘোষণার আগেই উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গ: ইভিএম ও স্ট্রং রুম পাহারায় তৃণমূল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১ মে, ২০২৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪টি আসনের ভোটের ফল ঘোষণা হবে আগামী ৪ মে। তবে ফলাফল প্রকাশের আগেই ভোট গণনা এবং ইভিএমের নিরাপত্তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বুথফেরত জরিপগুলোতে বিজেপির জয়ের ইঙ্গিত দেওয়ার পর শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস কারচুপির আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

স্ট্রং রুম পাহারায় মমতা ও তৃণমূলের অবস্থান

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশঙ্কা, বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে সঙ্গে নিয়ে ভোট গণনায় কারচুপি করতে পারে। এই লক্ষ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত থেকে রাজ্যের প্রতিটি ভোট গণনা কেন্দ্রের স্ট্রং রুমগুলোতে ২৪ ঘণ্টা পাহারা দেওয়ার জন্য কর্মীদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থান: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল কেন্দ্রের স্ট্রং রুমে টানা ৪ ঘণ্টা অবস্থান করে নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করেন।

নেতাদের ধর্মঘট: ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে ইভিএম কারচুপি রোধে অবস্থানে বসেন তৃণমূল প্রার্থী শশী পাঁজা ও কুণাল ঘোষ। সেখানে পাল্টা অবস্থান নেন বিজেপি প্রার্থী তাপস রায় ও সন্তোষ পাঠক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনীকে লাঠিপেটা করতে হয়েছে।

গণনাকেন্দ্র ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

এবার পশ্চিমবঙ্গজুড়ে মোট ৭৭টি কেন্দ্রে ভোট গণনা করা হবে।

  • কেন্দ্র বিন্যাস: সবচেয়ে বেশি ৭টি কেন্দ্র রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনায়, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৬টি এবং কলকাতায় ৫টি কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • কড়া বিধিমালা: প্রতিটি কেন্দ্রে ভিডিওগ্রাফি হবে এবং কিউআর কোডযুক্ত পরিচয়পত্র ছাড়া প্রবেশ নিষিদ্ধ। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পর্যবেক্ষক ছাড়া অন্য কারও জন্য মুঠোফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

  • নিরাপত্তা বাহিনী: ২০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীসহ ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা মোতায়েন থাকবে।

গণনার সময়সূচী

আগামী সোমবার (৪ মে) সকাল ৮টায় প্রথমে পোস্টাল ব্যালট এবং এরপর ইভিএমে বন্দী ভোট গণনা শুরু হবে। আশা করা হচ্ছে, দুপুর ১২টার মধ্যেই ভোটের প্রাথমিক গতিপ্রকৃতি স্পষ্ট হয়ে যাবে, যদিও অনেক কেন্দ্রে চূড়ান্ত ফলাফল পেতে রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

বিশ্লেষণ: ২০২১ সালের তুলনায় এবার গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা ১০৮টি থেকে কমিয়ে ৭৭টি করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ওপর তৃণমূলের অনাস্থা এবং বিজেপির জয়ের দাবি—সব মিলিয়ে ৪ মে-র ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পুরো রাজ্য এখন থমথমে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ