ইসলামী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ গঠনে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম, কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি
নিজস্ব প্রতিবেদক, পকেট নিউজ | ২২ জুন ২০২৬
দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর অন্যতম ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা ও সুশাসন নিয়ে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যাংকটির স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন না হলে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম।
সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচি থেকে ফোরামের আহ্বায়ক নূর উন নবী কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সময়সীমা বেঁধে দিয়ে এ ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে সাত দফা দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে আগামী বুধবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানানো হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ
অবস্থান কর্মসূচিতে নূর উন নবী অভিযোগ করেন, ইসলামী ব্যাংকের চলমান সংকট নিরসনে গ্রাহক, আমানতকারী ও শেয়ারহোল্ডারদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সাত দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। এ বিষয়ে গভর্নরের কাছে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক দাবিগুলো যৌক্তিক বলে স্বীকার করলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটির প্রতি গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
স্বাধীন ও পেশাদার পরিচালনা পর্ষদের দাবি
গ্রাহক ফোরামের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সৎ, যোগ্য, অভিজ্ঞ ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ইসলামী ব্যাংকের স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন।
এ ছাড়া ২০১৭ সালে যেসব শেয়ারহোল্ডারের মালিকানা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে, তাদের অধিকার পুনর্বহালের দাবিও জানানো হয়েছে।
সাত দফা দাবির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
ফোরামের উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
ইসলামী ব্যাংকসহ ব্যাংক খাতে সংঘটিত আর্থিক অনিয়ম ও অর্থ লুটপাটের বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন।
ব্যাংক থেকে লুণ্ঠিত অর্থ দ্রুত উদ্ধার।
এস আলম গ্রুপের সংশ্লিষ্ট সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা।
ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮/ক ধারা সংশোধনের মাধ্যমে ‘লুটেরাদের পুনর্বাসনের সুযোগ’ বন্ধ করা।
ব্যাংকের মালিকানা ও পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
আরও পড়ুন
রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতির আশঙ্কা, চলতি অর্থবছরে ৮৮ হাজার কোটি টাকা কম পেতে পারে সরকার
বিস্তারিত পড়ুন এখানেস্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি
সংগঠনটি জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক প্রসঙ্গে দেওয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছে। তাদের দাবি, ওই বক্তব্য ব্যাংকের গ্রাহক ও আমানতকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।
ব্যাংক খাতে নতুন চাপ
ব্যাংকিং খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী ব্যাংক দেশের অন্যতম বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এর পরিচালনা পর্ষদ, মালিকানা কাঠামো এবং সুশাসন নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত আমানতকারী, বিনিয়োগকারী এবং সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
এ অবস্থায় আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক কী পদক্ষেপ নেয়, তা ইসলামী ব্যাংকের ভবিষ্যৎ পরিচালনা কাঠামো এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online


0 মন্তব্যসমূহ