তামান্নার মন্তব্যে নতুন বিতর্ক: দক্ষিণি সিনেমায় নারীদের উপস্থাপন নিয়ে ফের প্রশ্ন
বিনোদন ডেস্ক | পকেট নিউজ | ২৬ জুন ২০২৬
রামচরণ অভিনীত আলোচিত চলচ্চিত্র ‘পেড্ডি’ মুক্তির পর থেকেই ছবির নারী চরিত্র উপস্থাপন নিয়ে বিতর্ক থামছে না। বিশেষ করে জাহ্নবী কাপুর অভিনীত ‘আচিয়াম্মা’ চরিত্রকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। দর্শকদের অভিযোগ, চরিত্রটিকে যথাযথ গুরুত্ব না দিয়ে অশালীন ও একপেশেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সমালোচনার মুখে নির্মাতারা দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি ছবির কিছু বিতর্কিত দৃশ্য বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এমন পরিস্থিতিতে দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে নারীদের উপস্থাপন নিয়ে অভিনেত্রী তামান্না ভাটিয়ার সাম্প্রতিক মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, দক্ষিণি মূলধারার সিনেমায় নারীদের অনেক সময় এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যা প্রশংসাসূচক নয়; বরং একটি ‘পিতৃতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির’ প্রতিফলন।
‘আইটেম সং’ নয়, ‘পার্টি সং’
এক সাক্ষাৎকারে তামান্না বলেন, তিনি ‘আইটেম সং’ শব্দটি ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। তাঁর মতে, এসব গান মূলত দর্শকদের বিনোদনের জন্য নির্মিত ‘পার্টি সং’।
তিনি বলেন, অনেক সময় একটি সিনেমা ভুলে গেলেও তার গান বছরের পর বছর মানুষের মনে থেকে যায়। উদাহরণ হিসেবে তিনি কারিনা কাপুরের ‘ছাম্মাক ছাল্লো’ এবং ক্যাটরিনা কাইফের ‘শীলা কি জওয়ানি’ ও ‘কামলি’ গানের জনপ্রিয়তার কথা উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায়, এসব গানে অভিনেত্রীরা শুধু গ্ল্যামারের প্রতীক নন, বরং দর্শকদের স্মৃতিতে স্থায়ী হয়ে থাকা একেকটি পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন।
গ্ল্যামার আমার ব্যক্তিত্বের অংশ
তামান্না মনে করেন, গ্ল্যামার কোনো অভিনয় নয়, এটি তাঁর ব্যক্তিত্বেরই অংশ। তিনি বলেন, ক্যামেরার সামনে নিজেকে আলাদাভাবে গড়ে তুলতে হয় না; বরং বাস্তব জীবনেও তিনি আত্মবিশ্বাসী ও গ্ল্যামারাস থাকতে পছন্দ করেন।
তাঁর মতে, ভারতীয় চলচ্চিত্রে দীর্ঘদিন ধরে নারী তারকাদের ক্ষেত্রে একটি দ্বৈত মানদণ্ড বিদ্যমান। একদিকে দর্শক তাঁদের গ্ল্যামার দেখতে চান, অন্যদিকে সেই গ্ল্যামারের কারণেই সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।
দক্ষিণি সিনেমায় ‘পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি’
সাক্ষাৎকারের সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রশিল্প নিয়ে তামান্নার মন্তব্য। তিনি বলেন, দক্ষিণি সিনেমায় কাজ করতে গিয়ে তিনি উপলব্ধি করেছেন, অনেক চলচ্চিত্র এখনো নারীদের এমনভাবে উপস্থাপন করে, যেখানে তাঁদের চরিত্র, চিন্তা বা ব্যক্তিত্বের চেয়ে বাহ্যিক সৌন্দর্য ও শরীরী আবেদনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, এই দৃষ্টিভঙ্গিকে চলচ্চিত্র তত্ত্বে ‘মেল গেজ’ (Male Gaze) বলা হয়। ১৯৭৫ সালে ব্রিটিশ চলচ্চিত্র গবেষক লরা মুলভে এ ধারণাটি জনপ্রিয় করেন। তাঁর মতে, বহু চলচ্চিত্রে নারী চরিত্রকে মূলত পুরুষ দর্শকের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে উপস্থাপন করা হয়।
পরিবর্তনের চেষ্টা, তবু রয়ে গেছে চ্যালেঞ্জ
দক্ষিণি সিনেমায় দীর্ঘদিন ধরেই নায়ককেন্দ্রিক গল্পের আধিপত্য রয়েছে। অধিকাংশ বাণিজ্যিক ছবিতে নায়কের ভূমিকাই মূল, আর নায়িকার উপস্থিতি অনেক ক্ষেত্রে প্রেম, গান কিংবা নায়কের প্রশংসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে নয়নতারা, সাই পল্লবী, কীর্তি সুরেশসহ বেশ কয়েকজন অভিনেত্রী নারীকেন্দ্রিক চলচ্চিত্রের মাধ্যমে এ ধারা বদলানোর চেষ্টা করছেন। এরপরও মূলধারার বাণিজ্যিক সিনেমায় পুরোনো ফর্মুলা পুরোপুরি বদলায়নি।
বলিউডে তুলনামূলক বেশি সুযোগ
তামান্নার মতে, বলিউডে অন্তত অভিনেত্রীদের সামনে বিভিন্ন ধরনের চরিত্র বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কেউ চাইলে অভিনয়নির্ভর সিনেমায় কাজ করতে পারেন, আবার কেউ বাণিজ্যিক ধারার গ্ল্যামারাস ছবিতেও সফল হতে পারেন।
তিনি মনে করেন, গত দুই দশকে বিদ্যা বালান, আলিয়া ভাট, কঙ্গনা রনৌত ও তাপসী পান্নুর মতো অভিনেত্রীরা প্রমাণ করেছেন, নারীকে কেন্দ্র করেও সফল ও ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র নির্মাণ সম্ভব।
নতুন করে আলোচনায় নারী চরিত্রের উপস্থাপন
তামান্না ভাটিয়ার এই মন্তব্য শুধু একটি সাক্ষাৎকারের অংশ নয়; বরং ভারতীয় চলচ্চিত্রে নারীর অবস্থান, চরিত্র নির্মাণ এবং উপস্থাপন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। ‘পেড্ডি’কে ঘিরে সাম্প্রতিক সমালোচনার মধ্যেই তাঁর বক্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—সময়ের সঙ্গে প্রযুক্তি ও গল্পের ধরণ বদলালেও, নারী চরিত্রকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি কি সত্যিই বদলেছে?
বিনোদন জগতের আরো খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন
নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online


0 মন্তব্যসমূহ