📢 প্রতিদিনের খেলার সূচি ও লেটেস্ট খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 চাকরির নিয়োগ, পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার কমে ৬২.২৫%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। ------ || ------ 📢 খেলা||- ফুটবল-- আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ------ || ------ 📢 হরমুজ প্রণালি কবে খুলবে, অনিশ্চয়তায় ফের বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম।

তাজমহল ঘিরে নতুন বিতর্ক: মন্দিরের দাবিতে জরিপ চাইলেন আবেদনকারী

 

তাজমহল ঘিরে নতুন বিতর্ক: মন্দিরের দাবিতে জরিপ চাইলেন আবেদনকারী, হাইকোর্টের নোটিশে নতুন আলোচনার সূচনা

তাজমহল ঘিরে নতুন বিতর্ক: মন্দিরের দাবিতে জরিপ চাইলেন আবেদনকারী, হাইকোর্টের নোটিশে নতুন আলোচনার সূচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, পকেট নিউজ | ৭ জুলাই ২০২৬

ভারতের অন্যতম ঐতিহাসিক ও বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রতীক তাজমহলকে ঘিরে আবারও নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এলাহাবাদ হাইকোর্ট সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার ও আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (এএসআই)-এর কাছে জানতে চেয়েছেন, তাজমহলের নিচে কথিত একটি প্রাচীন হিন্দু মন্দিরের অস্তিত্ব যাচাইয়ে জরিপ পরিচালনা করতে বাধা কোথায়। আদালতের এই পর্যবেক্ষণের পর বহুদিন ধরে চলমান একটি বিতর্ক নতুন করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আলোচনায় উঠে এসেছে।

তবে আদালত এখনো তাজমহল মন্দির ছিল—এমন কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। বরং আবেদনকারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জরিপের বিষয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতামত জানতে নোটিশ জারি করেছেন। ফলে বিষয়টি এখনো বিচারাধীন এবং চূড়ান্ত রায়ের অনেক আগের একটি আইনি ধাপে রয়েছে।

কী নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক

এই মামলার আবেদনকারীদের দাবি, আগ্রার তাজমহল আসলে ‘তেজো মহালয়া’ নামে একটি প্রাচীন হিন্দু মন্দির, যা ভগবান মহাদেবের উদ্দেশে নির্মিত হয়েছিল। তাঁদের অভিযোগ, মুঘল সম্রাট শাহজাহান পরবর্তীকালে এই স্থাপনাটি দখল করে তাঁর স্ত্রী মমতাজ মহলের সমাধিসৌধে রূপান্তর করেন।

এই দাবি সামনে রেখে আবেদনকারীরা আদালতের কাছে তাজমহলের ভেতর ও নিচের অংশে জরিপ পরিচালনার অনুমতি চেয়েছেন। তাঁদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে জরিপ পরিচালনা করলে স্থাপনাটির প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

হাইকোর্ট কী বলেছেন

এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি রোহিতরঞ্জন আগরওয়ালের বেঞ্চ আবেদনকারীর বক্তব্য শুনে কেন্দ্রীয় সরকার ও এএসআইকে নোটিশ দিয়েছেন। আদালতের প্রশ্ন ছিল—তাজমহলের নিচে মন্দিরের অস্তিত্ব রয়েছে কি না, তা অনুসন্ধানে জরিপ করতে আপত্তির কারণ কী?

তবে আদালত কোনো পর্যায়েই আবেদনকারীদের দাবিকে সত্য বলে স্বীকৃতি দেননি। বরং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য শোনার জন্য আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়েছেন।

পুরোনো মামলার ধারাবাহিকতা

মূল বিরোধের সূত্রপাত ২০১৫ সালে। সে সময় একজন আইনজীবী তাজমহলে অ্যাডভোকেট কমিশনার নিয়োগ করে স্থাপনার ছবি ও ভিডিও সংগ্রহের আবেদন করেছিলেন। আগ্রার দেওয়ানি আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেন।

পরবর্তীতে ২০১৯ সালে একই ধরনের আরেকটি আবেদনও আদালতে গ্রহণযোগ্য হয়নি। আদালতের যুক্তি ছিল, আবেদনকারীরা সম্পত্তির অবস্থান, সীমানা ও মালিকানা সম্পর্কিত পর্যাপ্ত নথি উপস্থাপন করতে পারেননি।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ওই আদেশের বিরুদ্ধে করা সংশোধনী আবেদনও খারিজ হয়ে যায়। এরপর আবেদনকারীরা এলাহাবাদ হাইকোর্টে নতুন করে আবেদন করেন।

কেন তাজমহলকে মন্দির দাবি করা হচ্ছে

মামলার আবেদনকারীরা দাবি করেছেন, তাজমহল আসলে দ্বাদশ শতকে রাজা পরমর্দি দেব নির্মিত একটি শিবমন্দির। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, এর নাম ছিল ‘তেজো মহালয়া’ এবং সেখানে আগ্রেশ্বর মহাদেবের পূজা হতো।

তাঁদের আরও দাবি, স্থাপনাটিতে এমন বহু স্থাপত্যিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা একটি হিন্দু মন্দিরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে তাঁরা তাজমহলের তালাবদ্ধ কক্ষগুলো খুলে তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন।

আবেদনকারীদের মতে, ভারতের সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হিন্দুদের সেখানে পূজা করার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে।

সরকারি ও ঐতিহাসিক অবস্থান কী

ভারত সরকারের পর্যটন বিভাগ, আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া এবং ইউনেস্কোর নথি অনুযায়ী, তাজমহল মুঘল সম্রাট শাহজাহান তাঁর স্ত্রী মমতাজ মহলের স্মৃতিতে নির্মাণ করেছিলেন।

ইতিহাসবিদদের মতে, ১৬৩১ সালে তাজমহলের নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ১৬৫৩ সালের দিকে শেষ হয়। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য নিদর্শন হিসেবে ১৯৮৩ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত করে।

প্রত্নতত্ত্ববিদ ও অধিকাংশ ইতিহাস গবেষক দীর্ঘদিন ধরেই তাজমহলকে মুঘল স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করে আসছেন। আবেদনকারীদের দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত আদালতে কোনো চূড়ান্ত ঐতিহাসিক স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন

প্রায় দুই দশকের শাসনের অবসান? গাজার ক্ষমতা ছাড়তে প্রস্তুতির ঘোষণা হামাসের

বিস্তারিত পড়ুন এখানে

বাবরি মামলার ছায়া

বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলার সঙ্গে অযোধ্যার বাবরি মসজিদ–রামমন্দির বিরোধের একটি রাজনৈতিক ও আইনি মিল রয়েছে।

বাবরি মামলায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ২০১৯ সালে বিতর্কিত জমি রামমন্দির নির্মাণের জন্য বরাদ্দের রায় দেন। সেই রায়ের পর বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা নিয়েও নতুন করে দাবি উত্থাপনের প্রবণতা দেখা যায়।

তাজমহল সংক্রান্ত বর্তমান মামলাও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আবেদনকারী আইনজীবীদের সঙ্গে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও রাজনৈতিকভাবে আলোচনায় এসেছে।

এখন কী হতে পারে

হাইকোর্টের নোটিশের জবাবে কেন্দ্রীয় সরকার ও এএসআই তাদের অবস্থান আদালতে তুলে ধরবে। এরপর আদালত সিদ্ধান্ত নেবেন জরিপের আবেদন গ্রহণযোগ্য কি না এবং নিম্ন আদালতের আগের আদেশ বহাল থাকবে নাকি বাতিল হবে।

যদি আদালত জরিপের নির্দেশ দেন, তাহলে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে তাজমহলের নির্দিষ্ট অংশের নথিভুক্ত অনুসন্ধান হতে পারে। আর আবেদন খারিজ হলে বর্তমান অবস্থাই বহাল থাকবে।

আন্তর্জাতিক গুরুত্বের কারণে বাড়ছে নজর

তাজমহল শুধু ভারতের নয়, বিশ্বের অন্যতম পরিচিত ঐতিহাসিক স্থাপনা। প্রতিবছর দেশি-বিদেশি লাখো পর্যটক এটি দেখতে আগ্রায় যান। আন্তর্জাতিক পর্যটন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং ভারতের পরিচয়ের অন্যতম প্রতীক হওয়ায় এ ধরনের যেকোনো আইনি বিতর্ক বিশ্বজুড়েই গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হয়।

সব মিলিয়ে, এলাহাবাদ হাইকোর্টের সাম্প্রতিক নোটিশ তাজমহলকে ঘিরে নতুন এক আইনি অধ্যায়ের সূচনা করেছে। তবে এই মুহূর্তে আদালত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি। তাই তাজমহলের ভবিষ্যৎ বা এর ঐতিহাসিক পরিচয়ে কোনো পরিবর্তন এসেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ এখনো নেই। মামলার পরবর্তী শুনানি এবং আদালতের চূড়ান্ত রায়ের ওপরই নির্ভর করবে এই বহুল আলোচিত বিতর্কের ভবিষ্যৎ।

নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ-এর সঙ্গে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ