রেকর্ড বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম অঞ্চল, স্থগিত চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা
৪৩ বছরের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতে তলিয়ে গেছে সড়ক, প্রাণহানি ৬, ব্যাহত বিমান-রেল যোগাযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক, পকেট নিউজ| প্রকাশিত: ৮ জুলাই ২০২৬
টানা দুই দিনের রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ বন্যা ও জলাবদ্ধতা। পরিস্থিতির অবনতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সব জেলার বুধবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে পাহাড়ধস, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া, বিমান ও রেল চলাচলে বিঘ্ন এবং বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার গভীর রাতে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বোর্ডের আওতাধীন স্থগিত হওয়া পরীক্ষার নতুন সময়সূচি পরে ঘোষণা করা হবে। তবে দেশের অন্য সব শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।
৪৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত
আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম নগরীতে ৩৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এটি গত ৪৩ বছরের মধ্যে জুলাই মাসে এক দিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।
ভারী বর্ষণের কারণে নগরীর প্রধান সড়ক, অলিগলি ও নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক স্থানে হাঁটুপানি জমে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। দুর্ভোগে পড়েন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীরা।
পাহাড়ধস ও দুর্ঘটনায় ৬ জনের মৃত্যু
অবিরাম বৃষ্টির ফলে চট্টগ্রাম নগর, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা, রাঙামাটির বাঘাইছড়ি এবং কক্সবাজারে দেয়াল ও পাহাড়ধসের ঘটনায় অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সড়ক, রেল ও বিমান যোগাযোগে অচলাবস্থা
অতিরিক্ত বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কের বিভিন্ন অংশ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি বহু গ্রামীণ সড়ক প্লাবিত হওয়ায় স্থানীয়দের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে তিনটি ফ্লাইট অবতরণ করতে পারেনি।
অন্যদিকে রেললাইনের ওপর পানি জমে যাওয়ায় প্রায় এক হাজার যাত্রী নিয়ে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন চট্টগ্রাম নগরের ষোলোশহর এলাকায় দীর্ঘ সময় আটকে থাকে। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বাড়ে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কক্সবাজার
দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কক্সবাজার জেলা। জেলার সদর, উখিয়া, টেকনাফ, রামু, মহেশখালী, চকরিয়া ও পেকুয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে গত দুই দিনে ছোট-বড় ১৯৩টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। শতাধিক গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় হাজারো মানুষ মানবিক সংকটে পড়েছেন।
পেকুয়ার টৈটং ইউনিয়নের হাজীবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানি ঢুকে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও স্থানীয় সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
আরও পড়ুন
টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজারের ৩৩ ইউনিয়ন প্লাবিত, পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে হাজারো মানুষ
বিস্তারিত পড়ুন এখানেএইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সব জেলার বুধবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
তবে ঢাকা, রাজশাহী, যশোর, কুমিল্লা, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ, দিনাজপুরসহ দেশের অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত পরীক্ষাগুলো যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে।
চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত পরীক্ষার নতুন সময়সূচি পরে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।
প্রশাসনের সতর্কবার্তা
স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে পাহাড়ি এলাকা, নদীতীর ও জলাবদ্ধ অঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এক নজরে
চট্টগ্রাম বোর্ডের সব জেলার বুধবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত।
২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৩৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টি, ৪৩ বছরের রেকর্ড।
পাহাড়ধস ও দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ৬।
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত।
খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।
তিনটি ফ্লাইট অবতরণ করতে পারেনি।
প্রায় এক হাজার যাত্রী নিয়ে ট্রেন আটকা পড়ে।
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে ১৯৩টি পাহাড়ধসের ঘটনা।
আরও পড়ুন
বন্যার কারণে চট্টগ্রাম ও রাঙামাটিতে বুধবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত
বিস্তারিত পড়ুন এখানে

0 মন্তব্যসমূহ