📢 প্রতিদিনের খেলার সূচি ও লেটেস্ট খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 চাকরির নিয়োগ, পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার কমে ৬২.২৫%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। ------ || ------ 📢 খেলা||- ফুটবল-- আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ------ || ------ 📢 হরমুজ প্রণালি কবে খুলবে, অনিশ্চয়তায় ফের বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম।

টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজারের ৩৩ ইউনিয়ন প্লাবিত, পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে হাজারো মানুষ

 

টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজারের ৩৩ ইউনিয়ন প্লাবিত, পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে হাজারো মানুষ

টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজারের ৩৩ ইউনিয়ন প্লাবিত, পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে হাজারো মানুষ

পাহাড়ি ঢল ও নদীর পানি বৃদ্ধিতে পানিবন্দী বহু পরিবার; সেন্ট মার্টিনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ চরম

নিজস্ব প্রতিবেদক, পকেট নিউজ | ৭ জুলাই ২০২৬

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে কক্সবাজারে বন্যা ও পাহাড়ধস পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢল এবং বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার ৯টি উপজেলার অন্তত ৩৩টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। নিম্নাঞ্চলের হাজারো পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শত শত ঘরবাড়ি, সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা। একই সঙ্গে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে এক হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দুই দিনও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে নতুন করে পাহাড়ধস, ভূমিধস ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত ৩৩ ইউনিয়ন

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পাহাড়ি ঢল ও নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রামু ও চকরিয়া উপজেলা। এ দুটি উপজেলার অন্তত ১৪টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। পাশাপাশি কক্সবাজার পৌরসভা, টেকনাফ, উখিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, ঈদগাঁও ও কুতুবদিয়ার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলেও বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে।

পানিতে তলিয়ে গেছে অসংখ্য বসতঘর, গ্রামীণ সড়ক ও কৃষিজমি। অনেক এলাকায় মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিটি উপজেলায় সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।

সাম্প্রতিক দুর্যোগে প্রাণহানি বেড়ে ১০

বৃষ্টিজনিত দুর্যোগে গত কয়েক দিনে কক্সবাজারে প্রাণহানির ঘটনাও বেড়েছে। রোববার দিবাগত রাতে একাধিক পাহাড়ধসে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে আটজন রোহিঙ্গা নিহত হন। একই রাতে কক্সবাজার শহরে পাহাড়ধসে মারা যান একজন স্থানীয় বাসিন্দা। এছাড়া পেকুয়া উপজেলায় মাটির ঘর ধসে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

প্রশাসনের আশঙ্কা, ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় আরও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এক হাজার মানুষ

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, পাহাড়ধসের ঝুঁকি বিবেচনায় কক্সবাজার শহর, রামু, উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা থেকে অন্তত এক হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতিটি উপজেলায় মাইকিং, প্রচার-প্রচারণা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

টেকনাফে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ

ভারী বর্ষণের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে টেকনাফ উপজেলায়। উপজেলার হ্নীলা, হোয়াইক্যং, সদর, সাবরাং ও বাহারছড়া ইউনিয়নের একাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে।

হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আলী জানান, ইউনিয়নের অন্তত ৪০০টি ঘরে পানি প্রবেশ করেছে। বহু কাঁচা ঘর আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সড়ক ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মো. অনীক চৌধুরী বলেন, উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় ছোট-বড় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটছে। ঝুঁকিপূর্ণ বসতি থেকে বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হচ্ছে এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

সেন্ট মার্টিন পাঁচ দিন ধরে বিচ্ছিন্ন

বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথে টানা পাঁচ দিন ধরে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে দ্বীপটি কার্যত মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

এর প্রভাব পড়েছে শিক্ষা কার্যক্রমেও। সেন্ট মার্টিনের দুইজন এইচএসসি পরীক্ষার্থী সময়মতো টেকনাফে পৌঁছাতে না পারায় পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। জেলা প্রশাসন তাঁদের পুনঃপরীক্ষার সুযোগ চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন পাঠিয়েছে। পাশাপাশি পরবর্তী পরীক্ষার সময় কোস্টগার্ডের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের আনা-নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জানান, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় দ্বীপে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন

দেশজুড়ে গ্যাস সরবরাহে সংকট, ঢাকাতেও কম চাপ; দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় এলএনজি সরবরাহ ৩০ শতাংশ কমেছে

বিস্তারিত পড়ুন এখানে

শহরজুড়ে জলাবদ্ধতা, পর্যটকদের ভোগান্তি

টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। হোটেল-মোটেল জোন, কলাতলী, সুগন্ধা, বাজারঘাটা, কালুর দোকান, তারাবনিয়াছড়া, আলীরজাহাল, বাস টার্মিনাল এবং বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে।

এতে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক হোটেল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।

অন্যদিকে কুতুবদিয়া উপজেলার লেমশীখালী-কৈয়ারবিল সড়কের একটি জরাজীর্ণ সেতু ধসে পড়ায় দুই এলাকার মানুষের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন।

আরও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আবদুল হান্নান জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী দুই দিনও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে পাহাড়ধস, ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বহাল থাকবে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের অপ্রয়োজনে পাহাড়ের ঢালে অবস্থান না করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online


আরও পড়ুন

অক্টোবরকে সামনে রেখে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি জোরদার, সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের কথা জানাল ইসি

বিস্তারিত পড়ুন এখানে

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ