দেশজুড়ে গ্যাস সরবরাহে সংকট, ঢাকাতেও কম চাপ; দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় এলএনজি সরবরাহ ৩০ শতাংশ কমেছে
নিজস্ব প্রতিবেদক, পকেট নিউজ | ৭ জুলাই ২০২৬
দেশে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার প্রভাবে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। সমুদ্র উত্তাল থাকায় কক্সবাজারের মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ প্রায় ৩০ শতাংশ কমানো হয়েছে। এর ফলে আবাসিক, শিল্প ও বিদ্যুৎ খাত—সব ক্ষেত্রেই গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্র জানিয়েছে, দেশে দীর্ঘদিন ধরেই প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে দেশের মোট গ্যাস সরবরাহের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ আসে এলএনজি থেকে। ফলে এলএনজি সরবরাহে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেও তার সরাসরি প্রভাব পড়ে জাতীয় গ্যাস বিতরণ ব্যবস্থায়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১০৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। তবে বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সোমবার গভীর রাত থেকে ধাপে ধাপে প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ কমিয়ে আনা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৭৫ কোটি ঘনফুট এলএনজি জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে।
পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে টার্মিনালগুলোর কার্যক্রম পূর্ণমাত্রায় চালু করা হবে এবং এলএনজি সরবরাহ আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে সংকট আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।
ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় কমে গেছে গ্যাসের চাপ
এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রভাব ইতোমধ্যে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পড়তে শুরু করেছে। অনেক এলাকায় রান্নার সময় গ্যাসের চাপ কম থাকায় চুলা জ্বলতে সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে সকাল ও সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে এ সংকট আরও প্রকট হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গ্যাস সংকটের কারণে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের জেলায় গ্যাস বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি গ্রাহকদের জন্য সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল থেকে প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। ফলে তিতাসের আওতাধীন এলাকায় সব শ্রেণির গ্রাহক গ্যাসের স্বল্পচাপের সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এ অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন
জুনে কমলেও মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে, স্বস্তি মিলছে না সাধারণ মানুষের
বিস্তারিত পড়ুন এখানেশিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদনেও প্রভাবের আশঙ্কা
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাস সরবরাহ কমে গেলে শুধু আবাসিক গ্রাহকই নন, শিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতও বড় ধরনের চাপে পড়ে। দেশের অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাসনির্ভর হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ কমে গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনও হ্রাস পেতে পারে।
এ ছাড়া তৈরি পোশাক, সিরামিক, কাচ, স্টিলসহ গ্যাসনির্ভর শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পেলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে শিল্প খাতের উৎপাদন ব্যয় ও সরবরাহ ব্যবস্থায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এলএনজির ওপর বাড়ছে নির্ভরতা
দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে উৎপাদন ক্রমাগত কমে যাওয়ায় বাংলাদেশ গত কয়েক বছরে এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। বর্তমানে জাতীয় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার একটি বড় অংশই আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরশীল। ফলে আন্তর্জাতিক বাজার, আবহাওয়া কিংবা সমুদ্রবন্দর-সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যার সরাসরি প্রভাব দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় পড়ছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস সরবরাহের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করার পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং আমদানি অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
বর্তমানে আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতির দিকেই নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। সমুদ্র শান্ত হলে এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ততদিন পর্যন্ত রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ ও সরবরাহ সংকট অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online
আরও পড়ুন
অক্টোবরকে সামনে রেখে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি জোরদার, সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের কথা জানাল ইসি
বিস্তারিত পড়ুন এখানে

0 মন্তব্যসমূহ