📢 প্রতিদিনের খেলার সূচি ও লেটেস্ট খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 চাকরির নিয়োগ, পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার কমে ৬২.২৫%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। ------ || ------ 📢 খেলা||- ফুটবল-- আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ------ || ------ 📢 হরমুজ প্রণালি কবে খুলবে, অনিশ্চয়তায় ফের বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম।

চার বিভাগের ১৫ জেলায় আকস্মিক বন্যার শঙ্কা

চার বিভাগের ১৫ জেলায় আকস্মিক বন্যার শঙ্কা, তিন দিন থাকতে পারে সংকট

চার বিভাগের ১৫ জেলায় আকস্মিক বন্যার শঙ্কা, তিন দিন থাকতে পারে সংকট

ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে; চট্টগ্রামে ৪৩ বছরের রেকর্ড বৃষ্টিপাত, সতর্কতা জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক, পকেট নিউজ| ৮ জুলাই ২০২৬

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে টানা ভারী বর্ষণ এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে দেশের চার বিভাগে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশের উত্তর-পূর্ব, পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে অন্তত ১৫টি জেলার নিম্নাঞ্চল স্বল্পমেয়াদি বন্যার কবলে পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্থানীয়ভাবে আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি হতে পারে। তবে আগামী শনিবার থেকে পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে।

চার বিভাগে বাড়ছে বন্যার ঝুঁকি

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, সিলেট, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, ফেনী, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের নিম্নাঞ্চল।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব এলাকায় স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে পাহাড়ি ঢলপ্রবণ অঞ্চল এবং সীমান্তবর্তী নদীগুলোর তীরবর্তী এলাকায় ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।

টানা বৃষ্টিতে পরিস্থিতি জটিল

গত কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। অনেক স্থানে ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২০০ মিলিমিটারেরও বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।

এর মধ্যে চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা জুলাই মাসে গত ৪৩ বছরের মধ্যে এক দিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজও দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টি হতে পারে এবং এই পরিস্থিতি আগামী শনিবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

উজানের ঢলেও বাড়ছে নদীর পানি

শুধু দেশের বৃষ্টিই নয়, ভারতের মেঘালয়, ত্রিপুরা এবং সংলগ্ন উজান এলাকাগুলোতেও ভারী বর্ষণ হয়েছে। ফলে সীমান্তবর্তী নদীগুলোর পানি দ্রুত বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। পাশাপাশি সুরমা, কুশিয়ারা, গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সাঙ্গু, মাতামুহুরী, দুধকুমার ও ধরলা নদীর পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিন দিন থাকতে পারে সংকট

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান জানিয়েছেন, সম্ভাব্য আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি প্রায় তিন দিন স্থায়ী হতে পারে। এরপর শনিবার থেকে পানি কমতে শুরু করলে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের প্রধান নদীগুলোর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে থাকলেও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে। তাই স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

রেকর্ড বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম অঞ্চল, স্থগিত চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা

বিস্তারিত পড়ুন এখানে

দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় সতর্কতা জোরদার

ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে টানা বর্ষণে জলাবদ্ধতা, পাহাড়ধস এবং নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় নিচু অঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগেও বিঘ্ন ঘটছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সম্ভাব্য বন্যাপ্রবণ এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে নদীতীরবর্তী এবং পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আকস্মিক বন্যার সময় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে নিম্নাঞ্চলের মানুষ, কৃষিজমি ও যোগাযোগব্যবস্থা। তাই আগাম সতর্কবার্তা গুরুত্বের সঙ্গে অনুসরণ করা, প্রয়োজনীয় খাদ্য ও ওষুধ মজুত রাখা এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়াই সবচেয়ে কার্যকর প্রস্তুতি।

আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দেশের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে সতর্কতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ