📢 প্রতিদিনের খেলার সূচি ও লেটেস্ট খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 চাকরির নিয়োগ, পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার কমে ৬২.২৫%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। ------ || ------ 📢 খেলা||- ফুটবল-- আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ------ || ------ 📢 হরমুজ প্রণালি কবে খুলবে, অনিশ্চয়তায় ফের বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম।

বান্দরবানে ভয়াবহ পাহাড়ধস: লামায় পৃথক দুই ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজন নিহত

 

বান্দরবানে ভয়াবহ পাহাড়ধস: লামায় পৃথক দুই ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজন নিহত

বান্দরবানে ভয়াবহ পাহাড়ধস: লামায় পৃথক দুই ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজন নিহত

টানা বর্ষণে বাড়ছে পাহাড়ধসের ঝুঁকি; ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, পকেট নিউজ| ৯ জুলাই ২০২৬

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে পার্বত্য জেলা বান্দরবানে পাহাড়ধসের ঝুঁকি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এরই মধ্যে জেলার লামা উপজেলায় একই এলাকায় পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একটি পরিবারের স্বামী-স্ত্রী ও তাঁদের পাঁচ বছরের সন্তান এবং অন্য পরিবারের স্বামী-স্ত্রী রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার ভোরে আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া (পাগলির ঝিরি) এলাকায় ঘটে যাওয়া এ দুটি দুর্ঘটনা নতুন করে পাহাড়ি অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি এখনো বহাল রয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।

ভোররাতে প্রথম ধস, একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম পাহাড়ধসের ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে। ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া এলাকার একটি বসতঘরের ওপর।

ঘটনার সময় ঘরের ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলেন মো. ইউনুস (৪০), তাঁর স্ত্রী রানু আক্তার (৩৫) এবং তাঁদের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মো. সোলেমান। পাহাড়ের মাটি ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়।

বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

দেড় ঘণ্টা পর দ্বিতীয় ধসে প্রাণ গেল আরও দুজনের

প্রথম ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই প্রায় দেড় ঘণ্টা পর একই ইউনিয়নের মিশনপাড়া এলাকায় আবারও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে।

ভোর আনুমানিক ৫টা ৪০ মিনিটে পাহাড়ের মাটি ও ধসে পড়া দেয়ালের নিচে চাপা পড়ে মারা যান মো. জুয়েল (৩৪) ও তাঁর স্ত্রী কুলছুমা আক্তার (২৫)। তাঁরা নিজ বাড়ির একতলা পাকা ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা, ফায়ার সার্ভিস এবং পুলিশ সদস্যদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপারের বক্তব্য

বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, একই এলাকায় পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনায় মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি এখনো অনেক বেশি। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

বাড়ছে দুর্যোগের আশঙ্কা

জেলা পুলিশের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, অব্যাহত বর্ষণের কারণে বান্দরবানের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় নতুন করে পাহাড়ধসের পাশাপাশি আকস্মিক প্লাবনের ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।

বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জনজীবনেও চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে অনীহা, উদ্বিগ্ন প্রশাসন

প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী অনেক মানুষ এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছেন।

এ কারণে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং জনপ্রতিনিধিরা যৌথভাবে মাইকিং, প্রচারণা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পাশাপাশি লামা উপজেলার সার্বিক পরিস্থিতির ওপর গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে, যাতে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।

আরও পড়ুন

চার বিভাগের ১৫ জেলায় আকস্মিক বন্যার শঙ্কা, তিন দিন থাকতে পারে সংকট

বিস্তারিত পড়ুন এখানে

তিন দিনে বাড়ছে প্রাণহানি

সাম্প্রতিক কয়েক দিনের টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানজুড়ে পাহাড়ধসের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন স্থানে প্রাণহানির পাশাপাশি বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে।

দুর্যোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড় কাটা, অপরিকল্পিত বসতি নির্মাণ এবং দীর্ঘস্থায়ী ভারী বর্ষণ মিলিয়ে পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড়ধসের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।

সতর্ক থাকার আহ্বান

প্রশাসন পাহাড়ের পাদদেশ, ঝুঁকিপূর্ণ ঢাল এবং পাহাড়ঘেঁষা এলাকায় বসবাসকারী সবাইকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ভারী বর্ষণ চলাকালে অপ্রয়োজনে পাহাড়ি এলাকায় যাতায়াত না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত পাহাড়ধসের ঝুঁকি পুরোপুরি কাটবে না। তাই জনসচেতনতা এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলাই সম্ভাব্য প্রাণহানি এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

পোস্ট লোড হচ্ছে...

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ