Header Ads Widget

Responsive Advertisement
📢 প্রতিদিনের খেলার সূচি ও লেটেস্ট খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 চাকরির নিয়োগ, পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 খামেনির শেষবিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু, তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় রাখা হলো মরদেহ ------ || ------ 📢 বিশ্বকাপ ফুটবল (শেষ ৩২)-- সুইজারল্যান্ড বনাম আলজেরিয়া সময়: সকাল ৯:০০টা, অস্ট্রেলিয়া বনাম মিসর সময়: রাত ১২:০০টা, আর্জেন্টিনা বনাম কেপ ভার্দে সময়: আগামীকাল (৪ জুলাই) ভোর ৪:০০টা, কলম্বিয়া বনাম ঘানা সময়: আগামীকাল (৪ জুলাই) সকাল ৭:৩০ মিনিট, সরাসরি: বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময় টিভি। ------ || ------ 📢 ঢাকায় অপরাধের লাগাম টানতে হিমশিম প্রশাসন, সক্রিয় ১১৭ অপরাধী চক্র; প্রশ্নের মুখে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ

‘বাংলা কিউআর’ বাধ্যতামূলক: এক কোডেই সব ব্যাংক ও এমএফএসে লেনদেন

 

‘বাংলা কিউআর’ বাধ্যতামূলক: এক কোডেই সব ব্যাংক ও এমএফএসে লেনদেন, ডিজিটাল অর্থনীতিতে নতুন অধ্যায়

‘বাংলা কিউআর’ বাধ্যতামূলক: এক কোডেই সব ব্যাংক ও এমএফএসে লেনদেন, ডিজিটাল অর্থনীতিতে নতুন অধ্যায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, পকেট নিউজ | ৩ জুলাই ২০২৬

দেশে নগদ অর্থের ব্যবহার কমিয়ে ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনকে আরও সহজ, নিরাপদ ও সর্বজনীন করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ‘বাংলা কিউআর’ (Bangla QR) কোডের মাধ্যমে যেকোনো ব্যাংক কিংবা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ব্যবহারকারী একই কিউআর স্ক্যান করে অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনার পর ইতোমধ্যে দেশের সব ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব কিউআর কোড পরিবর্তন করে বাংলা কিউআর চালু করেছে। ফলে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা এখন একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মের আওতায় এসেছে।

এক কিউআরেই সব ধরনের লেনদেন

এতদিন কোনো দোকান বা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট ব্যাংক বা এমএফএসের কিউআর কোড থাকলে কেবল সেই প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকরাই ডিজিটালভাবে অর্থ পরিশোধ করতে পারতেন। অন্য গ্রাহকদের অনেক ক্ষেত্রে নগদ অর্থ ব্যবহার করতে হতো।

বাংলা কিউআর চালুর ফলে সেই সীমাবদ্ধতা দূর হয়েছে। এখন একটি মাত্র কিউআর কোড ব্যবহার করে যেকোনো ব্যাংক, বিকাশ, নগদ, রকেট বা অন্য এমএফএস অ্যাপ থেকেই তাৎক্ষণিকভাবে অর্থ পরিশোধ করা যাবে। লেনদেন নিষ্পত্তি হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ (NPSB)–এর মাধ্যমে।

এর ফলে বড় শপিংমল থেকে শুরু করে ছোট দোকান, কাঁচাবাজার কিংবা ফুটপাতের ব্যবসায়ীরাও একই কিউআর ব্যবহার করে সব ধরনের গ্রাহকের কাছ থেকে ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারবেন।

নগদ অর্থের ব্যবহার কমানোর লক্ষ্য

বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, বাংলা কিউআর জনপ্রিয় হলে নগদ অর্থ বহনের প্রয়োজন কমবে, জাল নোট ও ছিনতাইয়ের ঝুঁকি হ্রাস পাবে এবং আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়বে। একই সঙ্গে সরকারের টাকা ছাপানোর ব্যয়ও কমবে।

ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. এহতেশামুল হক খান বলেন, বাংলা কিউআর চালুর ফলে সব ব্যাংক ও এমএফএসের গ্রাহক একই প্ল্যাটফর্মে লেনদেন করতে পারছেন। এতে নগদ টাকা বহনের ঝুঁকি কমেছে, ভাঙতি টাকার প্রয়োজন হচ্ছে না এবং যেকোনো সময় যেকোনো পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করা যাচ্ছে।

তিনি জানান, রাজধানীর বনানী কাঁচাবাজার ও শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে নগদবিহীন লেনদেন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, যার লক্ষ্য এসব এলাকায় ক্যাশলেস লেনদেনকে উৎসাহিত করা।

ব্যবসায়ী ও গ্রাহকদের জন্য বাড়তি সুবিধা

বাংলা কিউআর ব্যবস্থায় কোনো বিক্রেতাকে আর একাধিক ব্যাংক বা এমএফএসের আলাদা আলাদা কিউআর কোড ব্যবহার করতে হবে না। এতে ব্যবসা পরিচালনা সহজ হবে এবং ডিজিটাল লেনদেনের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে।

রাজধানীর দিলকুশার এক ব্যবসায়ী রাশেদুল হাসান জানান, আগে শুধু বিকাশ ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে ডিজিটাল পেমেন্ট নেওয়া যেত। এখন বাংলা কিউআরের মাধ্যমে সব ধরনের গ্রাহক অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন, যা বিক্রি বাড়াতে সহায়ক হবে।

পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, একটি অভিন্ন কিউআর ব্যবস্থার ফলে গ্রাহকদের লেনদেন আগের চেয়ে সহজ হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কার্ডভিত্তিক লেনদেনের পরিবর্তে কিউআরভিত্তিক পেমেন্ট দ্রুত জনপ্রিয় হবে।

দেশে দ্রুত বাড়ছে কিউআরভিত্তিক লেনদেন

২০২৩ সালের জানুয়ারিতে পরীক্ষামূলকভাবে বাংলা কিউআর চালু হয়। ২০২৫ সালের মধ্যে দেশের ৪৬টি ব্যাংক, ৭টি এমএফএস এবং ৪টি পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার এ ব্যবস্থায় যুক্ত হয়। সে সময় প্রায় ৯ লাখ ৬৩ হাজার মার্চেন্ট বাংলা কিউআর ব্যবহার শুরু করেন।

বর্তমানে বিকাশের প্রায় ৯ লাখ, নগদের সাড়ে ৪ লাখ, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ও রকেটের ২ লাখ ৭০ হাজার, পূবালী ব্যাংকের ১ লাখ ৯০ হাজার, ইসলামী ব্যাংকের ৮০ হাজার, সোনালী ব্যাংকের ৫৪ হাজার, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ৫০ হাজার এবং সিটি ব্যাংকের প্রায় ৪০ হাজার কিউআর কোড বাংলা কিউআরে রূপান্তর করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসে কিউআর কোড ব্যবহার করে ব্যাংকিং গ্রাহকেরা ২ হাজার ৯৬ কোটি টাকা এবং এমএফএস গ্রাহকেরা ৪ হাজার ২৪৩ কোটি টাকা লেনদেন করেছেন।

আরও পড়ুন

তিন নতুন উপজেলা ও একটি নতুন থানা অনুমোদন

বিস্তারিত পড়ুন এখানে

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ভবিষ্যতে সরকারি সব ধরনের আর্থিক সেবায় বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করা হবে। পাশাপাশি ইন্টারনেট ছাড়াই বাংলা কিউআরের মাধ্যমে লেনদেন চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

সরকারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডি, ওয়ান ডিজিটাল ওয়ালেট’ বাস্তবায়ন করা, যাতে একজন নাগরিক একটি সমন্বিত ডিজিটাল পরিচয় ও ওয়ালেট ব্যবহার করে সব ধরনের সরকারি ও বেসরকারি আর্থিক সেবা গ্রহণ করতে পারেন।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকারের একটি প্রতিনিধিদল আগামী সপ্তাহে এস্তোনিয়া সফরে যাচ্ছে। নগদবিহীন অর্থনীতিতে বিশ্বের অন্যতম সফল দেশ হিসেবে পরিচিত এস্তোনিয়ার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের ডিজিটাল পেমেন্ট অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলা কিউআর শুধু একটি নতুন পেমেন্ট প্রযুক্তি নয়; এটি দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তোলার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তবে এর সফল বাস্তবায়নের জন্য ইন্টারনেট অবকাঠামো উন্নয়ন, সাইবার নিরাপত্তা জোরদার এবং গ্রাহক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ