খামেনির শেষবিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু, তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় রাখা হলো মরদেহ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, পকেট নিউজ | ৩ জুলাই ২০২৬
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন প্রক্রিয়ার প্রথম পর্বের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে তাঁর মরদেহ রাখা হয়েছে, যেখানে দেশি-বিদেশি অতিথি, ধর্মীয় নেতা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।
শুক্রবার (৩ জুলাই) ভোরে খামেনি এবং তাঁর সঙ্গে নিহত অন্য ব্যক্তিদের মরদেহ গ্র্যান্ড মোসাল্লার প্রধান নামাজ কক্ষে নেওয়া হয়। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় রাষ্ট্রীয় শেষশ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচি।
প্রায় ১০০ দেশের প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, খামেনির শেষবিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশের প্রতিনিধিদল অংশ নেবে।
তাঁর তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে অন্তত ৮ জন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, ১২টি দেশের পার্লামেন্ট স্পিকার, বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, মন্ত্রী, বিশেষ দূত, আন্তর্জাতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং নাগরিক সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।
প্রথম দফায় শ্রদ্ধা জানাতে আসা বিদেশি অতিথিদের মধ্যে রয়েছেন ইন্দোনেশিয়া ও আফগানিস্তানের ইসলামি আলেম এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। এছাড়া ইরানে স্বীকৃত বিভিন্ন ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
তবে ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে প্রকাশ্যে সমর্থন দেওয়া কয়েকটি ইউরোপীয় দেশকে এ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
জাতীয় ঐক্যের আহ্বান প্রেসিডেন্টের
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশের সব শ্রেণি-পেশা ও মতের মানুষকে শেষবিদায়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, জাতিগত পরিচয়, রাজনৈতিক মত, আদর্শ কিংবা ধর্মীয় বিশ্বাস নির্বিশেষে সব নাগরিকের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ জাতীয় ঐক্য ও রাষ্ট্রীয় আদর্শের প্রতি জনগণের অঙ্গীকারের প্রতীক হয়ে থাকবে।
কয়েক দিনের শোক কর্মসূচি
ইরানি কর্মকর্তাদের ধারণা, কয়েক দিনব্যাপী এই শোকানুষ্ঠানে ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি মানুষের অংশগ্রহণ হতে পারে।
সরকারি কর্মসূচি অনুযায়ী, শনিবার ও রোববার পর্যন্ত তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ রাখা হবে। এরপর সোমবার রাজধানীতে রাষ্ট্রীয় শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।
পরবর্তী সময়ে পবিত্র শহর কুমে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালনের পর ইরাকের বাগদাদ, কারবালা ও নাজাফে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে ৯ জুলাই ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে দাফন করা হবে।
আরো বিশ্বের খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন
আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট
ইরানের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাত শুরুর প্রথম দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। তাঁর মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন বাস্তবতার জন্ম দিয়েছে এবং দেশটির রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির শেষবিদায়ের অনুষ্ঠানে বিপুল আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ শুধু একটি রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান নয়, বরং বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক সমীকরণ ও আঞ্চলিক অবস্থানও তুলে ধরবে।
নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online


0 মন্তব্যসমূহ